নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর–২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) সংসদীয় আসনের ঝিকরগাছা পৌরসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী নেত্রী ও কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর–২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যশোর প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার নারী কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনার কর্মসূচিতে বাধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর সরাসরি আঘাত। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার দুপুরে যশোর–২ সংসদীয় আসনের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। জামায়াত নেত্রীদের দাবি, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১৫–২০ জনের একটি দল নারী কর্মীদের পথরোধ করে মারধর করে। এতে রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস ও জোসনাসহ একাধিক নারী কর্মী আহত হন। গুরুতর আহত জোসনা ও কামরুন্নাহার বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় জোসনার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা এবং কামরুন্নাহারের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা নেত্রী মিসেস শিখা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইতে গিয়ে নারী কর্মীদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতন্ত্রের চরম লঙ্ঘন। ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে যশোর–২ সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

