১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে লাখ লাখ আফগান

প্রতিদিনের ডেস্ক:
নিজ দেশে দীর্ঘদিনের সংকট থেকে পালিয়ে আসা আফগানদের আশ্রয় দেওয়া পাকিস্তান ও ইরান সম্প্রতি নির্বাসন জোরদার করেছে। এর ফলে লাখো মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক দেশে ফিরতে হচ্ছে, যা তাদের ভরণপোষণ দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা একা—যেভাবেই তারা সীমান্তে পৌঁছাক না কেন, আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে দারিদ্র্য ও পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত কোনো এক দেশে।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। আইওএমের আফগানিস্তান কার্যালয়ের উপপ্রধান মুত্যা ইজোরা মাসকুন বলেন, এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান।শুধু গত বছরই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। তাদের অনেকেই কয়েক দশক কাটিয়েছেন বিদেশে। মাসকুন বলেন, এত বিপুল মানুষের আগমন সামাল দেওয়া যেকোনো দেশের পক্ষেই কঠিন।আইওএমের এক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ফেরার কয়েক মাস পরও ৮০ শতাংশ মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নেই। ১ হাজার ৩৩৯ জন অভিবাসীর ওপর জরিপটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসা মানুষের উপর চালানো হয়। তারা বাধ্য হয়ে পাথর বা কাদামাটির মতো উপকরণে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন। এর পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ফেরা আফগানদের আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে।১ হাজার ৬৫৮ জন প্রত্যাবাসনকারীর ওপর করা ওই জরিপে দেখা যায়, ভাড়াটিয়াদের চার ভাগের তিন ভাগই ভাড়া পরিশোধে অক্ষম। একইসঙ্গে অধিকাংশ পরিবারকে এক কক্ষে চার জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। আইওএমের জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান রয়েছে।ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম কয়েক মাসে যারা দেশে ফিরেছেন, তাদের গড় মাসিক আয় ছিল ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে।আইওএম জানায়, প্রত্যাবাসনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত। সংস্থাটি আরও জানায়, নারীপ্রধান পরিবারগুলো ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধেকই নিরাপদ পানির যোগান পেতে হিমশিম খাচ্ছে।আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন সহস্রাধিকের মধ্যে জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসনকারীরা সাধারণত যাতায়াত সহায়তা, একটি সিম কার্ড ও সামান্য অর্থ সহায়তা পান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়