প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা পৃথক দুটি মামলার রায়ে শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।রায় ঘোষণার আগে বিচারক মামলার অভিযোগ ও প্রমাণ বিষয়ে বলেন, এই দুই মামলায় মোট ১৮ জন আসামি রয়েছেন। আইন অনুযায়ী যেসব ব্যক্তি সরকারি প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা একে অন্যের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এ ঘটনায় স্পষ্টভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিচারক আরও বলেন, মামলার ১৮ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন পলাতক রয়েছেন এবং মাত্র একজন আসামি আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে আইন অনুযায়ী পলাতক আসামিদেরও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ীই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকারী সাক্ষীরা জানিয়েছেন প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের ঢাকায় এরই মধ্যে ফ্ল্যাট বা আবাসনের মালিকানা ছিল। যা সরকারি প্লট বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত যোগ্যতার স্পষ্ট ব্যত্যয়। পাশাপাশি অন্যান্য সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।রায়ে আসামি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ০১১ নম্বর ও ০১৯ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে একই রায়ে আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্লট বরাদ্দ পাওয়া শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়। অনাদায়ে প্রত্যেককে অতিরিক্ত ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।একই সঙ্গে মামলায় আত্মসমর্পণ করা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর করে মোট দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদেরও মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়। অনাদায়ে প্রত্যেকে অতিরিক্ত ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

