১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অন্তর্বর্তী সরকারের কথা ও কাজে অসংগতি

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব নেন আশিক চৌধুরী। এই হিসাবে এক বছরের বেশি সময় হলো তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দেশের বিনিয়োগ খাতে অগ্রগতি নেই বললেই চলে, বরং কিছু সূচক নিম্নমুখী হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
অন্তর্বর্তী সরকার আশিক চৌধুরীকে বিদেশ থেকে হায়ার করে এনেছিল মূলত দেশের অর্থনৈতিক খরা দূর করতে। সেই সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, অর্থনীতিতে খরা থাকবে না, বিদেশি বিনিয়োগে চাঙ্গা হবে অর্থনীতি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাইনি। গতকাল কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশিক চৌধুরী মূলত বিনিয়োগের ফাঁপা বুলি শুনিয়েছেন, অন্তত প্রাপ্ত তথ্যচিত্র সে কথাই বলছে। আমরা জানি, বিনিয়োগের অন্যতম সূচক হলো বিডায় নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এফডিআই তথ্য এবং শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির প্রবণতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিনটি সূচকের কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৫৫ কোটি ডলার, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগে প্রস্তাব নিবন্ধনের চিত্রও হতাশাজনক। একই অর্থবছরে বিডায় নিবন্ধিত মোট বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কম।
গতকালই এক বিশেষ লেখায়ও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। সেখানে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নতুন সরকারকে বেশ ভোগাবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ সব ঠিক, কিন্তু সরকার একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পরিবর্তে টালমাটাল হচ্ছে। বেশ কিছু ইস্যু নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।
সরকার একেবারে নির্বাচনের আগমুহূর্তে নবম পে স্কেল ঘোষণা করল, যা বাস্তবায়নের চাপ সামলাতে হবে নতুন সরকারকে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা কাটছেই না। অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু চুক্তি করেছে, যেসব নিয়ে অভিজ্ঞমহলেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এমনকি কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতিও পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে হাই প্রোফাইল চুক্তি নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়েও বিতর্ক থামছে না। এমন পরিস্থিতি যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য অনুকূল নয়। আমরা মনে করি, দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যা দেশের অর্থনীতিকে আরো নাজুক করে। মনে রাখতে হবে, নতুন সরকারের পথ মসৃণ করাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি নয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়