২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু। তাই বলা যায়, বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা সব ধরনের দ্বিধা, সংশয় ও আশঙ্কার অবসান হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কিছু উদ্বেগ আছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা যায়, আজকের ভোট উৎসবে ভোটারদের রেকর্ড পরিমাণ উপস্থিতি থাকবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচারের শেষ সময় নির্ধারিত থাকলেও মূলত সোমবার রাতেই প্রচার কার্যক্রম থেমে যায়। গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর টানা প্রায় ২০ দিন উৎসবের আমেজে চলে নির্বাচনী প্রচার। নির্বাচন কমিশন সোমবার জানিয়ে দিয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা ও ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সাধারণ যানবাহন হিসেবে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন বা মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে এখনো বড় উদ্বেগ বা আশঙ্কার কারণ নাজুক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের এক হাজার ৩৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র গত ১৭ মাসেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ বলছে, এর বেশির ভাগ চলে গেছে সন্ত্রাসীদের হাতে। সে সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি ভয়ংকর প্রাণঘাতী অস্ত্রও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি চোরাচালান হয়ে এসেছে। যে কারণে সারা দেশেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাও। বেড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও। জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে অন্তত এক হাজার ৪১১টি শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ১৩ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় তিন শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয় এবং নিহত হয় শতাধিক। এবারের নির্বাচনেও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ বহু কেন্দ্র রয়েছে। আমরা আশা করি, যৌথ বাহিনী সেসব ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষম হবে। মানুষ নিশ্চিন্তে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়