শামিম হোসেন, কুয়াদা
উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৩নং ভোজগাতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। জরাজীর্ণ এক পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনেই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরের সব কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এতে একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, অন্যদিকে নষ্ট হওয়ার পথে ভূমি সংক্রান্ত মূল্যবান নথিপত্র। নেই নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেই ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা, দৈনন্দিন কাজ চালানোই যেন এক দুর্বিষহ চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে অমানবিক পরিস্থিতির শিকার নারী সেবাগ্রহীতারা। মানসম্মত বাথরুম না থাকায় বাধ্য হয়ে পাশের ইউনিয়ন পরিষদের বাথরুম ব্যবহার করতে হয় তাদের, যা চরম বিব্রতকর ও অসম্মানজনক। নায়েবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দীর্ঘদিনের এই অবহেলা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানানো হলেও সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নেই।
ভোজগাতী ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “মানুষ এখানে এসে বিপদে পড়ে। কখন যে পুরোনো ভবন ভেঙে পড়ে, কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না। বিদ্যুৎ নেই, টয়লেট নেই, এভাবেই অফিস চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কষ্টের শেষ নেই।” তিনি দ্রুত নতুন ভবন ও মানসম্মত টয়লেট নির্মাণের দাবি জানান। এদিকে ভোজগাতী ইউনিয়নের দফাদার আব্দুল মালেক বলেন, “চাকরি জীবনের শুরু থেকেই দেখে আসছি, ভূমি অফিসের দিকে কেউ তাকায় না। অথচ এখানেই জমির সবচেয়ে মূল্যবান কাগজপত্র থাকে। কখন যে বড় ধরনের বিপদ ঘটে বলা যায় না।” জনভোগান্তি কমাতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রক্ষায় দ্রুত একটি টেকসই ভবন, নিজস্ব বিদ্যুৎ সংযোগ ও নারীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, ভোজগাতীবাসীর এই ন্যায্য দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

