প্রতিদিনের ডেস্ক
বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে আসামি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি তথা স্পেশাল পিপি বোরহান উদ্দিন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে শেখ হাসিনা ছাড়াও জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম এবং শেখ ফজলে নূর তাপসসহ তৎকালীন মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নতুন করে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন অত্যন্ত নৃশংসভাবে প্রাণ হারান। দীর্ঘ দেড় দশক অতিবাহিত হলেও এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্য পরিকল্পনাকারীরা বিচারের বাইরে রয়ে গেছেন বলে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে জোরালো দাবি ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ এখন মনে করছে, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যোগসাজশ ছাড়া এই ধরণের নৃশংসতা ঘটা সম্ভব ছিল না। ফলে তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে প্রভাবশালী এসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মামলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার পূর্ব ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া ২২৮ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পান এবং ২৮৩ জন খালাস পান। মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের নতুন এই উদ্যোগ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

