১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বিএনপির ভূমিধস বিজয়

অবশেষে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশার বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে সুন্দর ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানুষ যে ধরনের গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চেয়েছিল, গত বৃহস্পতিবার তেমনটিই প্রত্যক্ষ করেছে তারা।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট বর্জনের আহবান সত্ত্বেও নির্বাচনে ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। আর এই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা কয়েকটি দলের জোট। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে ২১২টি আসন। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দেড় দশকেরও বেশি স্বৈরশাসনের অধীনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত থাকা দেশের মানুষ দ্রুততম সময়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের প্রত্যাশা করতে থাকে। কিন্তু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করে নানা ধরনের টালবাহানা চলতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টার লাগামহীন কথাবার্তা মানুষকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংশয়ের মধ্যে ফেলে দেয়।
কোনো কোনো উপদেষ্টা এমনও বলতে থাকেন যে মানুষ চায় তাঁরা দীর্ঘ সময় কিংবা কমপক্ষে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকুন। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো দ্রুত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি করতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কখনো ২০২৬ সালের শেষে, কখনো জুন মাসের দিকে নির্বাচন করার ধারণা দেওয়া হতে থাকে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, অভ্যুত্থানের ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এরপর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। সেনাপ্রধানের সেই ঘোষণাকেও আমলে না নেওয়ার চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। এক পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। নির্বাচনের দাবি ক্রমেই সোচ্চার হতে থাকে। অবশেষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেব্রুয়ারিতে রমজান শুরুর আগেই নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে এবং জাতিকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মুছে ফেলার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তাঁর রাজনীতিতে ফেরার সব দুয়ার। কিন্তু মানুষের মনের মন্দিরে যে নাম লেখা হয়ে আছে, তা মোছার সাধ্য ছিল না কারো। গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক দিনে সেই নামটিই যেন ব্যালটে লিখে দিয়েছে কোটি মানুষ। জয়তু তারেক রহমান। এখন জাতি তাকিয়ে আছে তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি। জাতির দুর্ভাগ্য, আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তাঁর প্রিয় দল বিএনপির এমন নিরঙ্কুশ বিজয়ের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
দেশের অর্থনীতি তথা শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত দুরবস্থায়। দেশি বা বিদেশি প্রায় কোনো বিনিয়োগই নেই। মূল্যস্ফীতি লাগামহীন। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব আকাশছোঁয়া। কেবল গত দেড় বছরে ২০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে। অথচ ক্রমেই বাড়ছে কর্মক্ষম জনসংখ্যা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। গ্যাসের অভাবে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আমরা আশা করি, তারেক রহমান তাঁর মেধা, মনন দিয়ে সবার সহযোগিতায় দেশ পরিচালনার সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়