২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অভিনয়ে আসায় মেয়ের সঙ্গে এক বছর কথা বলেননি পাকিস্তানি অভিনেত্রীর বাবা

প্রতিদিনের ডেস্ক:
পর্দায় যাকে আমরা হাসিখুশি প্রাণবন্ত চরিত্রে দেখি, সেই জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী যশমা গিলের ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এআরওয়াই ডিজিটালের ‘শান-এ-সেহুর’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নিজের জীবনের এক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছেন। যশমা জানান, অভিনয়ে আসার আগে তিনি মূলত একজন পেশাদার মনস্তত্ত্ববিদ ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বাবা-মা তাকে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে সাইকোলজিতে ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে তিনি করাচির একটি হাসপাতালে কাজ শুরু করেন। তবে হাসপাতালের সেই চাকরি থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক ছিল খুবই সামান্য। যশমা জানান, একদিন গভীর রাতে শিফট শেষ করে বাসায় ফিরে তিনি অবাক হয়ে দেখেন, তার বৃদ্ধ বাবা ভোর ৬টায় কাজের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন। বাবার এই হাড়ভাঙা খাটুনি দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে যেকোনো উপায়ে পরিবারের হাল ধরবেন। সেই উদ্দেশ্য থেকেই তিনি অভিনয়জগতে পা রাখার সংকল্প করেন। তিনি তার মাকে বলেছিলেন, বাবা রাগ করলেও তার উদ্দেশ্য সৎ, কারণ তিনি কেবল পরিবারকে সাহায্য করতেই এই পথে নামছেন।
যশমার এই সিদ্ধান্ত তার বাবা সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। শোবিজ জগত নিয়ে রক্ষণশীল মানসিকতা ও ভুল ধারণার কারণে তিনি দীর্ঘ এক বছর মেয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মা পাশে থাকলেও বাবার এই মৌনতা যশমাকে ব্যথিত করত। অবশেষে এক রমজান মাসে তাদের মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করে। একদিন বাবা ঘরে ঢুকলে যশমা তাকে সালাম দেন এবং মনে করিয়ে দেন যে, ইসলাম অনুযায়ী সালামের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই ছোট ঘটনা থেকেই দীর্ঘদিনের অভিমান ভাঙতে শুরু করে।
পরবর্তীতে যশমা যখন তার বাবাকে ওমরাহ করতে নিয়ে যান, তখন সেখানে ভক্তদের ভালোবাসা ও সম্মান দেখে তার বাবার ভুল ভাঙে। আল্লাহর ঘরের মতো পবিত্র স্থানেও মানুষ যেভাবে যশমার কাজের প্রশংসা করছিল এবং তাকে উপহার দিচ্ছিল, তা দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে সঠিক পথেই আছেন। মানুষের সেই অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা দেখে শেষ পর্যন্ত মেয়ের পেশা নিয়ে গর্ববোধ করেন তিনি।
সূত্র: ডন

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়