১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যশোরের আলোচিত আ,লীগ নেত্রী মাহমুদা ছেলেসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চিহ্নিত প্রতারক কোটি টাকা আত্মসাৎকারী আওয়ামী লীগ নেত্রী মাহমুদা খাতুন নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জনতা। শনিবার দুপুরে শহরের বড়বাজারের এইচএমএম রোড থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা ছেলেসহ মাহমুদাকে কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপরই মাহমুদা আটকের সংবাদ পেয়ে প্রায় অর্ধশত পাওনাদার কোতোয়ালি থানায় ভিড় করে। আটক মাহমুদা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া সদুল্লাপুর গ্রামের মৃত ডাক্তার মনসুর আলীর মেয়ে। আর তার ছেলের নাম তন্ময় জামান। ভুক্তভোগীরা জানান, মাহমুদা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্সের নামে টাকা নেওয়া, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাবু গাজীর ছেলে দীপু খাতুন জানান, ইন্সুইরেন্স করার নাম করে এবং লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেয় মাহামুদা। এই রকম শতশত লোকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার মতো অনেক পাওনাদার তাকে খোঁজ করছিল। কিন্তু সে ঢাকায় গা-ঢাকা দিয়ে ছিলো। তিনি আরো ৪/৫ জনের ইন্সুইরেন্স করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখান। তাকে যশোরে দ্রুত আসার জন্য বিমান ভাড়া দেন। লোভে পড়ে মাহমুদা তার ছেলেকে সাথে নিয়ে বিমানে করে যশোরে আসেন। দড়াটানা এলাকার আরএফএল এর একটি শোরুমের সামনে পৌছালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে সময় মাহমুদা ও তার ছেলে তন্ময় জামান তার উপর চড়াও হয়। তাকে মারপিট করা হয় বলে অভিযোগ করেন দীপু খাতুন। মাহমুদা যশোরে আছে, এই সংবাদ শোনার সাথে সাথে অর্ধশত ভুক্তভোগী থানায় উপস্থিত হয়। সংবাদ পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ মাহমুদা ও তার ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, মাহমুদা এলাকায় ‘মামলাবাজ’ হিসেবেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করে হয়রানি করতেন। তারা আরও জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি যশোর-৪ আসনের মনোনয়নপত্রও কিনেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। জানা গেছে, তিনি আলোচিত মহুয়া ক্লিনিকের মালিক খলিলের স্ত্রী ছিলেন এবং তার একাধিক বিয়ের খবরও রয়েছে। পালবাড়ি এলাকার সোহেল রানা পলাশ জানান, মাহমুদা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ৩৩৪জনের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে। অন্য সাতজনের কাছ থেকে আরও ১৯ লাখ টাকা নিয়েছে। কেশবপুরের পাজিয়া গ্রামের আতিউর রহমান জানান, মাইডাস ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা নিয়েছে। মাহমুদা এক সময় গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স নামে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তখন থেকেই মাইডাস লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির নাম ভাঙ্গিয়ে মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে আসছেন। মাহমুদা আটকের সংবাদ পেয়ে প্রতারনার শিকার অর্ধশত মানুষ কোতোয়ালি থানায় চলে আসে। পাওনাদাররা জানান, মাহমুদা প্রথমে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এরপর থেকে জামানত হিসেবে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে থাকেন। একই সাথে ফাঁকা চেক নিয়ে নেয়। গ্রাহককে যখন লোন দিতে পারেনা তখন গ্রাহক চাপাচাপি সৃষ্টি করে। এই সুযোগে উল্টো গ্রাহকের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলার হুমকি দিযতো। এইভাবে শত শত মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করেছে মাহমুদা। এখন ঢাকার লালবাগ থানার চকবাজার এলাকার দ্বিগু বাবু লেনে বসবাস করেন তিনি। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, কোটি টাকা আত্মসাত কারার অভিযোগ আসে এক নারী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। দড়াটানায় পাওনাদারদের রোষানলে পড়লে পুলিশ দুইজনকে থানায় নিয়ে আসে। পাওনাদারদের বলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে। অভিযোগ পেলে মাহমুদা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়