১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জ্বালানিসংকটের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশে প্রকট হতে শুরু করেছে। সরকারের তরফ থেকে ‘জ্বালানি মজুদ সংকট নেই’ বলা হলেও বাস্তবতা হলো—পরিবহন খাত থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঈদের আগমুহূর্তে পরিবহন সংকটের কারণ দেখিয়ে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামনের দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়বে এবং সংকট ঘনীভূত হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, সরকারের আরোপিত কোটা নীতির কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সরকার কাগজে ২৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ কমানোর কথা বললে বাস্তবে তা আরো বেশি কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে কঠোর বিপণন নীতিমালা আরোপ করেছে। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।তিনিও স্বীকার করেছেন, দেশে প্রকৃত অর্থে জ্বালানি মজুদ সংকট নেই। আমরা মনে করি, এ ধরনের সমন্বয়হীনতা সংকট কমায় না, বরং বাড়ায়।
কালের কণ্ঠে অপর এক খবরে বলা হয়েছে, পরিবহন সংকটের প্রভাবে বাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা।বেড়েছে ডিমের দামও। সয়াবিন তেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি—চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। এ ছাড়া ঈদ সামনে রেখে প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন অনেকটা হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বহির্বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে। ইরান কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। কাজেই এই পথে জ্বালানি পাচ্ছে না বিশ্ব। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিশ্ব যেন প্রতি ব্যারেল তেল ২০০ ডলারে কেনার জন্য প্রস্তুত থাকে।
আমরা সবাই জানি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ওপর সরকারের হাত নেই, বরং বড় ধরনের সংকটের আঁচ পেয়ে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে—এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে সরকার ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে, তা কাটাতে হবে। ঈদ সামনে রেখে সুযোগসন্ধানী কোনো মহল যেন তৎপর হতে না পারে সেদিকে সরকারকে কঠোর নজর দিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়