২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

এসআইবিএলের প্রশাসকের পক্ষপাতিত্ব

দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, বিনিয়োগের অভাবে ধুঁকছে নানা খাত। শিল্প-কারখানা রয়েছে নানামুখী চাপে। রয়েছে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগও।বলা যায়, কোনো সূচকই আশার আলো দেখাতে পারছে না। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, এবার সুদিন আসবে। কিন্তু হতাশার খবর হলো, এখনো অনিয়মের খবর আসছে। গতকাল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্বের খবর প্রকাশিত হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বসানো প্রশাসক নিজেই নিয়ম মানছেন না। দেশের অর্থনীতিতে শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। তারাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। বহু লোকের কর্মসংস্থান তৈরি করে, সরকারকেও বড় অঙ্কের রাজস্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু তাদেরও নানামুখী সংকট মোকাবেলা করতে হয়। করোনা মহামারি, যুদ্ধবিগ্রহের থাবা থেকে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানও মুক্ত নয়। এ কারণে পরিস্থিতির চাপে পড়ে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই ঋণখেলাপি হয়েছে। কিন্তু অনুকূল পরিবেশ পেলে পুনরায় তারা ঘুরে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে। অর্থনীতিতে অবদান রাখা এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হওয়া বড় গোষ্ঠীগুলোর দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত বছর অক্টোবর মাসে জানানো হয়, বিপদের মুখে থাকা বড় গ্রুপগুলোকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করার সুযোগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে পুনঃ তফসিলের আবেদনের সঙ্গে ১ শতাংশ, আর বাকি ১ শতাংশ দিতে হবে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে। এ ছাড়া এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদি বিশেষ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে এসআইবিএলসহ ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসকের নেতৃত্বে এসআইবিএলের বোর্ড কোনো কোনো বড় গ্রাহকের সঙ্গে চরম স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেছে। অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হওয়া কিছু গ্রুপকে ব্যবসা সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নমনীয় নীতি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিলেও এই বোর্ড উল্টো কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সহায়তার বদলে নানা ধরনের শর্তের খড়্গ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বোর্ডের পছন্দমতো কোনো গ্রুপকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ আস্থার পরিবেশ নষ্ট করে। শুধু তা-ই নয়, এতে ঋণ ফিরে পাওয়ার বদলে আরো না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। আস্থার অভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ ছিল। বতর্মান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অগ্রাধিকার হলো দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বেসরকারি খাত চাঙ্গা করা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু এ ধরনের অনিয়ম অর্থনীতিতে গতি আনার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকমহল।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ মনে করেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া দরকার। তবেই তাঁরা ব্যবসা চালু করতে পারবেন এবং ব্যাংকের ঋণও ফেরত দিতে পারবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে চলতে হবে।
আমরা মনে করি, দেশের অর্থনীতিতে যে অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিকল্প নেই। শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে বা অচল থাকলে সব দিক থেকেই ক্ষতি। কাজেই নিয়ম মেনে শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকা দরকার। যেকোনো অনিয়ম দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়