প্রতিদিনের ডেস্ক:
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যেমন প্রত্যাশা তুঙ্গে, তেমনি সামনে আসছে বেশ কিছু উদ্বেগের দিকও। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও দলীয় গঠনের দিকে তাকালে স্পষ্ট, শিরোপা ধরে রাখতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান জরুরি।
প্রথমত, দলটি এখন প্রজন্ম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি এখনো দলের প্রাণভোমরা হলেও তার বয়স বেড়েছে। একইভাবে নিকোলাস ওতামেন্দির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এখনো পুরোপুরি সেই জায়গা দখল করতে পারেননি। ফলে প্রথম একাদশের বাইরে সমমানের বিকল্পের অভাব স্পষ্ট।
দ্বিতীয়ত, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ এখনো অনেকটাই মেসি নির্ভর।
তিনি না থাকলে দলের সৃজনশীলতা কমে যায়, যা কয়েকটি ম্যাচে ইতিমধ্যে দেখা গেছে। বড় টুর্নামেন্টে এটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রক্ষণভাগেও রয়েছে কিছু দুর্বলতা। বিশেষ করে সেট-পিস ও হেডারের ক্ষেত্রে দলটি মাঝে মাঝে ভোগান্তিতে পড়ে।শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই দুর্বলতা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে উত্তর আমেরিকায়, যেখানে দীর্ঘ ভ্রমণ ও ঠাসা সূচির কারণে খেলোয়াড়দের ফিটনেস বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইনজুরির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে হারের পর দলটি কিছুটা চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কোচ লিওনেল স্কালোনির দল সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশি খেলছে, যা বড় ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত পরীক্ষা দিচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এ ছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে তারা ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে খেলেনি, যা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনা এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হলেও তাদের সামনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলেই কেবল শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

