২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ফ্ল্যাট দখলের মামলা এমপি গিয়াস কাদেরের দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাজধানীর গুলশানে ফ্ল্যাট দখল, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ ও আশিকুর রহমান।বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জানান, মামলার নির্ধারিত তারিখে ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজিরা দেন। তবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সংসদ অধিবেশনের কারণে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়নি। অন্যদিকে বাকি চার আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।মামলাটি দায়ের করেন প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে এ অভিযোগ দাখিল করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশান মডেল টাউন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ নিয়ে ২০০৬ সালে ‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’-এর প্রোপ্রাইটর আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে চুক্তি করেন মাইনুল ইসলাম দম্পতি। ২০০৭ সালে তারা ভবনটি বুঝে পেলেও ২০০৮ সালে মাইনুল ইসলামের মৃত্যুর পর বিরোধের সূত্রপাত হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে ভবনের দ্বিতীয়তলার পুরো ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।গত বছরের ১৪ জুলাই আসামিরা বাসায় প্রবেশ করে তালা ভেঙে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করেন এবং ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।এছাড়া ২৮ আগস্ট পুনরায় হামলা চালিয়ে বাসার সদস্যদের মারধর, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগও আনা হয়েছে। এ সময় ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয় এবং প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।অন্যদিকে, মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে সামির কাদের চৌধুরী দাবি করেছিলেন, এটি একটি ‘বানোয়াট’ মামলা এবং তারা কখনো ওই ভবনে যাননি। তিনি আরও বলেন, বাদীর বিরুদ্ধেই আগে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়