অভয়নগর প্রতিনিধি
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভয়নগর উপজেলায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সিলগালা ও একটি হাসপাতালকে অর্ধ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ই এপ্রিল) বেলা ১২টা থেকে ঘন্টাখানেক নওয়াপাড়া পৌরসভার ক্লিনিক পাড়ায় ও সরকারি হাসপাতালের সামনে এ অভিযান চালানো হয়। এসময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ লাইসেন্স না থাকায় “মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার” সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় “আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল”-কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালের দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারে ইজিবাইকের লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে,এনেস্থেশিয়া ডাক্তার ছাড়া অপারেশন করেন, পর্যাপ্ত বেডের ব্যবস্থা নেই এবং রোগীদের কোনো রেজিস্টার্ড তালিকা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা নেই। এছাড়াও এ হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে কোনো অসঙ্গতি না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে মেডিকেল অফিসার ডা.শোভন বিশ্বাস ও অভয়নগর থানা পুলিশ। এ সময় অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দিপু বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সমন্বয় অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা (বন্ধ করা হয়) ও আল মদিনা হাসপাতাল কে ৫০০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ ও অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মনিরামপুর উপজেলার দোলা নামের এক গৃহবধূকে ভুল আল্ট্রাস্নোর রিপোর্ট প্রদান করেন। যাতে তার জমজ সন্তানের একটি মারা যায়। আবার সেই মাসেই রাজঘাট গাজীপুর এলাকার জোসনা বেগম নামের এক গৃহবধূ এ হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে সিজার করাতে গিয়ে মারা যান। আর আজ অভিযানে গিয়ে উপজেলা প্রশাসন এ হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোন অসঙ্গতি পাননি। এবিষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বলেন, প্রাথমিকভাবে অপারেশন থিয়েটারে তেমন কোনো অসঙ্গতি দেখা যায় নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এমন কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

