৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মণিরামপুরে ক্ষেতে আগাছা নাশক প্রয়োগে পুড়ে গেছে প্রায় ছয় বিঘা জমির ধান

জি এম ফারুক আলম, মণিরামপুর
মণিরামপুরে শত্রুতা করে প্রায় ছয় বিঘা জমির ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর আগাছা নাশক (ঘাস পোড়া) প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ধানের থোড় পুড়ে যাওয়াসহ ধানের পাতা পুড়ে গেছে। উপজেলার আগরহাটি বিলে এ ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা গভীর নলকূপের লীজ সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে স্থানীয় হাফিজুর নামে এক ব্যক্তিকে দায়ি করছেন। অবশ্য হাফিজুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উল্টো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তার কাঠের (জ্বালানি কাঠ) ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে গেলে জমির লীজ নিয়ে ধান চাষ করা ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন কৃষক কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আব্দুর রউফ জানান, প্রায় ত্রিশ বছর আগে ব্রাক সমিতির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জন্য এই গভীর নলকূপটি স্থাপন করে দেয়। এক পর্যায় সমিতি ভেঙ্গে গেলে গভীর নলকূপটি নিলাম হলে তারা কয়েকজন কিনে নেন এবং লীজ প্রদানের মাধ্যমে তা পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি গভীর নলকূপটি লীজ নিতে আগ্রহী হলেও তাকে না দিয়ে স্থানীয় লালু শেখ নামের এক ব্যক্তির কাছে লীজ প্রদান করেন। এ নিয়ে হাফিজুর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আব্দুল জব্বার, শামীম হোসেনসহ ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ হাফিজুর প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন হাফিজুর রহমান। তার দাবি সম্প্রতি বিলের একটি মাছের ঘের থেকে পানি সেচ দিয়ে তার জমিতে দেওয়া হচ্ছিল। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তা বন্ধ হয়। এতে তার বিরুদ্ধে ওই পক্ষটি ক্ষিপ্ত হয়। এরই জের ধরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তার দাবি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার জানান, ঘটনাটি ন্যাক্কার জনক। শত্রুতা করে কেউ ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর আগাছা নাশক প্রয়োগ করেছে। তবে, বৃষ্টি হওয়াতে ক্ষতিগ্রস্থ ধান ক্ষেতের ৪০ ভাগ রিকভার হতে পারে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়