উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দূর্গাবাটী সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর চরে ছোট-বড় হাজারো গাছ কেটে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ। জানতে পেরে ১৩ এপ্রিল(সোমবার) সকাল ১০টায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুনরায় খননকৃত মাটি ভরাট করেদেন উপজেলা প্রশাসন। এর আগে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন হয় এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, সবুজ খাঁন নামের ঠিকাদার, তার ম্যানেজার দিয়ে দিনে ও রাতে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন সংলগ্ন খোলপাটুয়া নদীর চরে ব্লক বানানোর জন্য মাঠ তৈরি করা জন্য পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে গাছ কেটে মাটি চাপা দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে এসব গাছ নদীর চর ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা আরও বলেন, এভাবে গাছ নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়বে। তাই অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয়রা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও উপকূলীয় সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।এবিষয়ে অভিযুক্ত সবুজ খানের ম্যানেজার আব্দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এমডির নির্দেশে আমি নদীর চরে ব্লক বানানোর জন্য বাঁধ দিয়েছি। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, সবুজ খাঁনের দেওয়া পানি আটকানো বাঁধ নিজ দাড়িয়ে থেকে কেটে দেন। এ সময় ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড এর কাছে গাছ কেটে মাটি-ভরাট দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে ওই স্থানে এসে দেখি বহু প্রজাতির গাছ কাটা হয়েছে এবং সেখানে মাটি ভরাট করে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবুজ খানের দেওয়া মাটির বাঁধ কেটে দেয়, এবং ওখানে সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।এসময় উপস্থিত ছিলেন,বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, আব্দুর রউফ, আবেদার রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

