১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় চুক্তি হয়নি

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়েছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। তাই সারা বিশ্বের দৃষ্টি ছিল পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার দিকে। সবাই প্রতীক্ষায় ছিলেন সমঝোতার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে এই যুদ্ধ অবসানের ঘোষণার জন্য, কিন্তু তা হয়নি।কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি ২১ ঘণ্টার আলোচনা থেকে। গণমাধ্যমে আসা খবরাখবর থেকে জানা যায়, অনেক বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হলেও দু-তিনটি বিষয়ে তারা কোনো ঐকমত্যে আসতে পারেনি। স্পষ্ট করে কোনো পক্ষ থেকে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘ইরানিদের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে, এটি ভালো দিক।
আর খারাপ দিক হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘আমাদের রেড লাইন কোনগুলো, তা আমরা খুব পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছি।’ ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও দু-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে। তিনি এও বলেছেন, ‘প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে—এমন প্রত্যাশা করা মোটেও স্বাভাবিক ছিল না এবং কেউ তা আশাও করেনি।’ তাঁর মতে, ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর এই আলোচনা এমন এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম অবিশ্বাস ও সন্দেহ বিরাজমান। বিশ্ববাসীর সামনে এখন আশা ও আশঙ্কা দুটিই বিদ্যমান। আশা এই কারণে যে এই আলোচনার সূত্র ধরে আবারও আলোচনা হবে এবং উভয় পক্ষ বিশ্ববাসীর জন্য কাঙ্ক্ষিত একটি সমঝোতায় পৌঁছবে। আশঙ্কার কারণ এই যে যুদ্ধ আবারও তার লেলিহান শিখা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বালিয়ে যাবে এবং সারা বিশ্বের দুর্ভোগের কারণ হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দুই পক্ষের শান্তি আলোচনায় কোনো ফল না হওয়ায় দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও ঝুঁকির মুখে পড়ল। এদিকে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চলমান। এটি আরো জোরদার হতে পারে। ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহকে রক্ষায় ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি ইসরায়েল ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াতে পারে। তার চেয়েও বড় আশঙ্কা করছেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। তাঁদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে চীন ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীন যদি ইরানকে অস্ত্র পাঠায়, তার পরিণাম ভয়াবহ হবে। বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ চায় দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান হোক। পাকিস্তানে যে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে, তা অব্যাহত থাকুক। যুদ্ধ নয়, কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হোক। আমরা মনে করি, জাতিসংঘ এখানে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে এবং নিরপেক্ষ দেশগুলো এ ব্যাপারে জাতিসংঘকে সর্বতোভাবে সহায়তা করতে পারে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়