১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মাজারে হামলা, ‘পীর’ হত্যা

সংঘবদ্ধ বা ‘মব’ সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যার সর্বশেষ শিকার হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম। ভাবা যায় না, মানুষ এতটা পাশবিক হয় কী করে! প্রায় শখানেক মানুষ প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে একজন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করল। তাঁর দরবার জ্বালিয়ে দিল। তাঁর অনুসারীদের মারধর করল। ঘটনাস্থলে পুলিশও ছিল। তার পরও নাকি উন্মত্ত ‘জনতাকে ফেরানো যায়নি’। এটি কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। কেউ যদি গুরুতর অন্যায়ও করে, তার পরও বিনা বিচারে এমন হত্যাযজ্ঞ সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘মব সন্ত্রাস’ অনেকটা সামাজিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছিল। তখন সরকারের উপরমহল থেকেও ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলে মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সেই সহিংসতার ডালপালা এখন নানাভাবে বিস্তার করেছে। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ মাসে দেশে শতাধিক মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিনজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও রয়েছেন। এসব সহিংসতার পেছনে কোন গোষ্ঠী বা কারা জড়িত, তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে অজানা থাকার কথা নয়। ফিলিপনগর গ্রামের ঘটনা সম্পর্কে খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনটি ফেসবুক পেজ ও চারটি ব্যক্তিগত আইডি থেকে পীর শামীমের একটি পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করা হয়। শনিবার সকালের দিকে স্থানীয় লোকজন ভিডিওটি শেয়ার দিতে থাকে। এরপর দুপুরেই শতাধিক মানুষ পীর শামীমের ওপর হামলা করে এবং তাঁকে হত্যা করে। দেখা যাচ্ছে, সব ঘটনার ধরন প্রায় এক। এসব সহিংসতার পেছনে একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় থাকে। নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে। আর অভিযোগ আনা হয় ‘ধর্ম অবমাননার’। এ ছাড়া পুলিশের ঢিলেঢালা ভাবও হতাশাজনক। জানা গেছে, পীর শামীমের দরবারে হামলা হতে পারে এমন খবর পুলিশের কাছে ছিল। কিন্তু তার পরও কেন হামলা রোধ করা গেল না? আমরা মনে করি, মব সহিংসতা বন্ধ করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। যারা উসকানিদাতা, যারা মবের আয়োজন করে, প্রযুক্তির এই যুগে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন নয়। জানা যায়, শামীম হত্যায় জড়িত কয়েকজন চিহ্নিত হয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়