প্রতিদিনের ডেস্ক
গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরের চৌগাছা, ঝিনাইদহের মহেশপুরে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দর্শনায় এবং মেহেরপুরের গাংনীতে বজ্রপাতে নারী ও শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চৌগাছা সংবাদদাতা জানান, যশোরের চৌগাছায় বজ্রপাতে আবু তাহের (৪৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের অন্দুলিয়া গ্রামের পশ্চিম মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক আন্দুলিয়া গ্রামের মৃত খায়রুল ইসলামের ছেলে । জানা যায়, এ দিন দুপুরে তিনি নিজের ক্ষেতে কাজ করছিল। হঠাৎ আকাশে মেঘ সৃষ্টি হয়। শুরু হয় ঝড় ও বজ্রপাত। এ সময় তিনি একই গ্রামের জনৈক মাসুম মিয়ার ধান ক্ষেত এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ও ঝড়োহাওয়া হওয়ায় তিনি বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে তিনি বাড়ি না আসায় সন্ধ্যায় তাকে খোঁজার উদ্দেশ্যে বাড়ীর লোকজন মাঠে যায় । অনেক খোঁজা খুজির পর তাকে একটি ধানক্ষেতর পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কৃষক আবু তাহেরের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি নুরুল আমিন শিকদার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মহেশপুর সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মান্দার বাড়ীয়া ইউনিয়নের বাথানগাছি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম রোজিনা খাতুন (৩২)। তিনি বাথানগাছি গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিজ বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করছিলেন রোজিনা খাতুন। ওই সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি চলাকালে আকস্মিকভাবে বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জীবননগর ও দর্শনা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫) এবং দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে আজিমুদ্দিন (১৫)। আজিমুদ্দিন দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাসেল হোসেন বাড়ির পাশের ঘোষনগর মাঠে কৃষি জমিতে তামাকের খড়ি গোছানোর কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, একই সময় দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের বালিগাদার মাঠে আজিমুদ্দিন তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে গেলে বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ ও দর্শনা থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা ভাটপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে জার্জিস রহমান (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জার্জিস রহমান ওই গ্রামের মৃত দাউদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জার্জিস রহমান নিজ জমিতে কলার বাগানে কাজ করছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই জার্জিস রহমানের মৃত্যু হয়। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

