সুন্দর সাহা
বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ল্যাগেজ ব্যবসার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় চোরাচালান সিন্ডিকেটের হোতারা। দৈনিক ‘প্রতিদিনের কথা’ পত্রিকায় সিন্ডিকেটের অপকর্মের ফিরিস্তি উঠে আসায় এই চক্রের হোতারা এখন সংবাদকর্মী ও পত্রিকার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ল্যাগেজ সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান হিসেবে পরিচিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারকারী কিলার সোবহান-বিতর্কিত হুন্ডি রিপন, ধর্ষক জসিম ও হিজড়া মাসুদসহ তাদের সহযোগীরা এই অপপ্রচারের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। সংবাদের মাধ্যমে তাদের অবৈধ সাম্রাজ্যে আঘাত লাগায় তারা এখন ‘গা জ্বালা’ মেটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে এই চক্রের গডফাদারদের ইন্ধনে ছাত্রদলের মত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠণের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কুৎসা রটনা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে এই সিন্ডিকেট ‘শার্শা উপজেলা ছাত্রদল’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছে। ওই আইডি থেকে ‘প্রতিদিনের কথা’ পত্রিকার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকে কেন্দ্র করে কুরুচিপূর্ণ ও বাজে মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করাই তাদের মূল ল্য। স্থানীয়দের অভিযোগ ও অতীতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত খুনি সোবহান এর এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের রেকর্ড রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সীমান্ত দিয়ে অর্থ পাচার বা হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে তিগ্রস্ত করার অন্যতম কারিগর সে। এদিকে, একটি ছাত্র সংগঠনের নাম অপব্যবহার করে ভুয়া আইডি পরিচালনা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল। জানা গেছে, ওই ভুয়া আইডি এবং এর নেপথ্যে থাকা কুশিলবদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ল্যাগেজ ব্যবসার আড়ালে এই সিন্ডিকেটটি মূলত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালামাল পারাপার করছে। সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমেই কেবল এই কালো হাতগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

