মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই সরকার তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ধিত মূল্য গতকাল রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার সব ব্যয় লাফিয়ে বাড়ে। এবার তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার আগেই বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এখন তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে মওকা ভেবে আরেক দফা দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, উৎপাদন খরচ থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ—সবকিছু জ্বালানিনির্ভর। তাই জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব বাজারে পড়বে, তা অস্বাভাবিক নয়।কিন্তু আমরা দেখছি, যখন তেলের দাম বাড়ানো হয়নি, তখনো তেলসংকটের দোহাই দিয়ে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা। ডিমের দামও বেড়েছে। শাক-সবজির দামও আকাশছোঁয়া।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, সরকারের তরফ থেকে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এর ফল মিলছে না। প্রতিদিন শত শত গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য লাইন দিয়ে বসে আছে। কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন বলে জানা গেছে। মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হলেও বাস্তবে হরমুজ প্রণালি কোনো বাধা নয়।তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তা দেশের জ্বালানির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। খবরে বলা হয়, রাজধানীতে আরো ১১টি পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর আগে সাতটি পাম্পে এই অ্যাপ চালু ছিল। ঢাকার বাইরেও কয়েকটি জেলায় এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। এটি আরো আগে চালু করা যেত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিলম্বে হলেও এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। জ্বালানি সরবরাহে এমন শৃঙ্খলা আরো বিস্তৃত করতে হবে।
জ্বালানিসংকটে দেশের সব খাত থমকে আছে। বোরো চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে। কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পোলট্রি-মৎস্য খাত বিপর্যয়ের মুখে। সরকারকে এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। সংকটকালে মুনাফাখোর ও সুযোগসন্ধানীদের তৎপরতা বন্ধে কঠোর হতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সংকট কেটে গেলে তেলের দাম যেন আগের অবস্থায় আনা হয়, সরকারকে সেই দৃষ্টান্তও রাখতে হবে।

