১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অসহনীয় তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ অভয়নগর হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

নওয়াপাড়া সংবাদদাতা
অভয়নগর উপজেলায় অসহনীয় তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। এই বৈরী আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তের শীর্ষে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। প্রচণ্ড গরমে ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা), হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি, সর্দি-জ¦র এবং হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ রোগী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আবেদার স্বামী রেজাউল হক জানান, “তার স্ত্রী হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি হয়েছেন।” তিনি আরও জানান, “ধান কাটার এই মৌসুমে প্রচণ্ড গরমের তীব্রতায় এলাকায় মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মরার উপর খাড়ার ঘা। তীব্র গরমের মধ্যে চরম বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং জনজীবনকে আরও বেশি অসুস্থ করে তুলেছে।” হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলিমুর রাজিব বলেন, “গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যার মধ্যে রোগীর চাপও বেড়ে যাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। আমরা চেষ্টা করছি সকলকে যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসা দিতে।” তিনি আরও জানান, “পানির অভাব, অতিরিক্ত সূর্যের তাপে দীর্ঘ সময় থাকা এবং খাদ্য ও বিশ্রামের অভাব রোগীদের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়াচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে রোগীর ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবারসহ হাসপাতালে এসে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলিমুর রাজিব সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান ও সূর্যের তাপ থেকে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলার স্থানীয় স্কুল, বাজার ও গ্রামগুলোতেও গরমের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।” স্থানীয়রা মনে করছেন, “বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য ছায়াযুক্ত এবং পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।”

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়