প্রতিদিনের ডেস্ক:
দীর্ঘ তিন সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র (রিহ্যাব) থেকে ছাড়া পেয়েছেন পপ কুইন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। সম্প্রতি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ এবং নানা ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের পর ৪৪ বছর বয়সী এই তারকা এখন সুস্থ জীবনে ফিরতে মরিয়া বলে জানা গেছে।সূত্রমতে, ৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকা বর্তমানে বেশ ‘ইতিবাচক মানসিকতায়’ রয়েছেন। রিহ্যাব থেকে ফেরার পর তিনি নিজের জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
গায়িকার ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিটনি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে তিনি বেশ আশাবাদী। নিয়মিত কাউন্সিলিং সেশনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।এ মুহূর্তে ব্রিটনির কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো তার দুই সন্তান— শন প্রেস্টন এবং জাইডেন জেমস। সাবেক স্বামী কেভিন ফেডারলাইনের সঙ্গে থাকা সন্তানদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করা তার মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সন্তানদের কথা চিন্তা করেই তিনি নিজের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনছেন বলে জানা যায়।
আইনি জটিলতা ও ডিইউআই মামলা
চলতি বছরের শুরুর দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছিলেন ব্রিটনি। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর এপ্রিলের শুরুতে তিনি রিহ্যাবে ভর্তি হন।
আগামী সোমবার (৪ মে) ভেনচুরা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হবে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। রিহ্যাবে থাকাকালীন ব্রিটনি নিয়মিত ‘অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস’ মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের মতে, ব্রিটনি তার জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে সেখানে খোলামেলা আলোচনা করেছেন, যা তাকে মানসিকভাবে হালকা হতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে তিনি অ্যালকোহল থেকে পুরোপুরি দূরে থাকছেন বলেও জানা গেছে। ঘনিষ্ঠরা মজার ছলে আরও জানিয়েছেন, এখন তার একমাত্র বিলাসিতা হলো ‘ফ্যান্সি কফি’। সন্তানদের পাশে থাকার তীব্র ইচ্ছাই তাকে এ কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলতে সাহায্য করছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারকা হিসেবে জনসাধারণের বাড়তি নজর থাকলেও ব্রিটনি যদি আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করেন এবং সুস্থতার এ ধারা বজায় রাখেন, তবে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠা তার জন্য সহজ হবে। বর্তমানে তার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্রিটনি পুরোপুরি আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলবেন এবং নিজেকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহায়তা গ্রহণ করবেন।
সূত্র: মার্কা

