মাসুম বিল্লাহ, কেশবপুর
কেশবপুর উপজেলা ভূমি অফিসকে ঘিরে আবারও উঠেছে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেশবপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার তোফাজ্জল হোসেনকে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ করতে। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস কক্ষে বসেই তিনি এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। এই ভিডিও যেন সেই অভিযোগেরই বাস্তব প্রতিফলন। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির মিউটেশন, নামজারি, খারিজসহ বিভিন্ন সেবা পেতে হলে নির্দিষ্ট হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে ‘সমঝোতা’ না হলে কাজ এগোয় না। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেশবপুরের একাধিক সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভূমি অফিসে গেলে আগে থেকেই বুঝে নিতে হয় কত টাকা লাগবে। না দিলে ফাইল ঘুরতেই থাকবে।” আরেকজন বলেন, “সরকার ডিজিটাল সেবা সহজ করার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না।” এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে থাকায় অনেক অনিয়মের খবর পেয়েছি। আশা করছি কেশবপুর ভূমি অফিস দূর্নিতী মুক্ত করতে পারবো। ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছিলো তখন ট্রেনিংয়ে ছিলাম। ট্রেনিং থেকে এসেই তাকে সতর্ক করেছি। নতুন করে অনিয়মে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সাধারন জনগন ভূমি অফিসে এসে হয়রানিমুক্তভাবে সেবা গ্রহন করতে পারে তার জন্য সার্বক্ষনিক চেষ্টা করে যাচ্ছি, আশা করছি সফল হবো।

