২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

শ্যামনগরে জিম্মি পশু চি‌কিৎসক অনিমেষ উদ্ধার : অপহরণ চক্রের তিন সদস্য আটক

উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত গবাদিপশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাকে সুন্দরবন থেকে নৌকায় করে মীরগাং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে তাকে সকাল সাড়ে ১০টায় সুন্দরবন বাজারে নিয়ে আসা হয়। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সুন্দরবন বাজার থেকে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে অহরণকারীরা অনিমেষকে সুন্দরবন থেকে মরাগাঙ নদীর পাড়ে রেখে যায়।এদিকে অপহরণের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যু মাহামুদুল হাসান ডন(৩২), একই গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে আব্দুর জব্বার(৩৫) ও নেছার আলীর ছেলে শাহীনুর গাজী (৩০)।অনিমেষ পরমান্য জানান, তার প্রতিবেশী আশরাফ হোসেন নিজের ফুফাত ভাইয়ের গরুর চিকিৎসা দেয়ার জন্য শনিবার সকালে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় সুন্দরবন বাজারে। পরবর্তীতে গরু না দেখিয়ে আগে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বনের মধ্যে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। অনিমেষের ভাষ্য, ২ দিন ধরে তাকে বনের মধ্যে থাকা নৌকায় আটকে রাখা হয়। খাবার খাওয়ার সময় ছাড়া সারাক্ষণ হাত বেঁধে রাখা হতো। তাকে জিম্মি করে তার মোবাইল থেকে কল করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে দেরি করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কারণে আটক অবস্থায় গরাণের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এঘটনায় অনিমেষ পরমান্য নিজে বাদী মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মীরগাং গ্রামের শাহীনুর জানান, রবিবার সন্ধ্যায় একই এলাকার মাহামুদুল ও জব্বার তাকে বিকাশে টাকা ও অনিমেষকে খাবার দিয়ে আসতে বলে। সে অনুযায়ি তিনি অনিমেষ পরমান্যকে ধলাই খালে পারে খাবার দিয়ে আসেন। এ সময় সেখানে আশরাফ আলী, তার ভাই চেঞ্জিস রবিউলসহ(২০১৮ সালে র‍্যাব এর কাছে আত্মসমর্পণকারি) তিনজন উপস্থিত ছিল। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, অনিমেষ পরমান্য অপহরণের পর তার ইউনিয়ন কর্মীরা আতংকে ভুগছে। এখন জরুরি প্রয়োজনেও রাতে তারা সীমান্ত বা সুন্দরবন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে যেতে রাজি হচ্ছে না। অনিমেষকে জিম্মি করার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, রবিবার রাতে কিছু টাকাসহ সবিতা ও তার ভাই দেবদাসকে নিয়ে যতীন্দ্রনগর ও মীরগাং এলাকায় অবস্থান করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারিরা আর যোগাযোগ করেনি। একপর্যায়ে সোমবার সকাল ১০ টায় কোষ্টগার্ড, পুলিশ ও বনবিভাগ যৌথ অভিযান শুরু করার আগেই বনদস্যুরা ডাঃ অনিমেষকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপহরণের সাথে জড়িত আফছার ও রবিউলসহ অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহামুদুল হাসান, শাহীনুর ও জব্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাঃ অনিমেষ পরমান্য বাদি হয়ে সোমবার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামিকাল মঙ্গলবার প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমাণ্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, গত ২ মে সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ডাঃ অনিমেষ পরমান্য। সাড়ে ১০টার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুপুর একটার পর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলে অনিমেষের ফোন থেকেই তার স্ত্রীর ফোনে মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়