২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাকে হত্যা প্রধান আসামির জামিনে পরিবারে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। এ ঘটনায় প্রধান আসামীর জামিনে মুক্তিকে ঘিরে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে নিহতের পরিবারে। নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকেলে যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে নিজ বাড়ির সামনে তার স্বামী আলমগীর হোসেনকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় মোটরসাইকেলে করে এসে হামলা চালায় জুলফিকার আলীর পুত্র বাসেদ আলী পরশ, মৃত মতিন দারোগার পুত্র আসাবুল ইসলাম সাগরসহ ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। মাথায় গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীর হোসেনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন ৪ জানুয়ারি যশোর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১০, ধারা ৩০২/৩৪)। মামলার প্রধান দুই আসামী বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে থাকা অবস্থাতেও বিভিন্ন সময়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গত ২৮ এপ্রিল উচ্চ আদালত প্রধান আসামীকে অস্থায়ী জামিন প্রদান করে। পরে ৩০ এপ্রিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আসামী নিজে ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে পুনরায় নিহতের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। নিহতের স্ত্রী আরও জানান, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি। রাত কাটে নির্ঘুম অবস্থায়। যেকোনো সময় হামলার আশঙ্কা করছি।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান আসামীর পিতা জুলফিকার আলী একজন আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এবং আসামী নিজেও আইন পেশার সাথে জড়িত থাকায় আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে দ্রুত জামিন নিতে সক্ষম হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন যশোর নগর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং গ্রীনল্যান্ড প্রোপার্টিজের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ছিল বলে দাবি পরিবারের। নিহতের স্ত্রী রাষ্ট্র ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “প্রকাশ্যে সংঘটিত এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী মাত্র চার মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একইসঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।” এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়