১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোর নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ আটক দুই মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক দুই যুবককে কয়েক ঘণ্টা পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও নানা আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে দুপুর প্রায় ২টার দিকে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে “সরকার ফুড” নামের একটি বেকারির স্টাফ রুমে ইয়াবা সেবনের সময় অভিযান চালান ফাঁড়ির টুআইসি (এএসআই) বিশ্বজিৎ ও কনস্টেবল আনারুল ইসলাম। এ সময় সামিউল খান (১৮) ও আকিজুল ইসলাম (১৮) নামের দুই যুবককে ইয়াবাসহ আটক করে ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য,আটকের পর পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছিলেন যে,তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। অভিযোগ ওঠে, ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আটক সামিউল রূপদিয়া খানপাড়ার বাচ্চু খানের ছেলে এবং আকিজুল হাটবিলা গ্রামের সেকেন্দার হাওলাদারের ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারি হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, টুআইসি বিশ্বজিৎ ক্যাম্পের পাশের একটি নির্জন এলাকায় (এসপির ঘের) ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন এবং সেখানে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তির আড্ডা বসে। এ কারণেই চিহ্নিত মাদককারবারিদের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।এ বিষয়ে বেকারি মালিক একরামুল সরদার মুঠোফোনে বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। তবে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।”
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাসুম খান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি, খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই কবির হোসেন মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া এএসআই বিশ্বজিৎ ও কনস্টেবল আনারুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়