উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সুন্দরবনে আবারও দস্যুদের তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। আলিম ও নানাভাই ডন বাহিনীর সদস্যরা ২০জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ফিরে আসা জেলে ইবরান, আব্দুল্লাহ’রা জানান, তারা সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে কাঁকড়া ধরতে বনে গিয়েছিলেন। সোমবার ও মঙ্গলবার (০৪ ও ০৫ মে) দুই দিনে ‘আলিফ ওরফে আলিম’ও ‘নানাভাই /ডন বাহিনী’ বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানো খালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, আল-আমিন (৩৫), আবুল বাসার বাবু (৩৭), আবুল কালাম (৪৭), শাহাজান গাজী (৫০), সিরাজ গাজী (৪০), আল-মামুন (১৬), হুমায়ুন (২৭), মনিরুল মোল্লা (২৬), সঞ্জয় (২৫), হৃদয় মন্ডল (৪৭), রবিউল ইসলাম বাবু (৩৫), রবিউল ইসলাম (২৪), আব্দুল সালাম (৪৫), ইব্রাহিম গাজী (৫৫), মুরশিদ আলম (৩৫),শুকুর আলী গাজী (৩২)। তারা শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদের পরিচয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করেননি তাদের সহযোগীরা। দস্যুরা তাৎক্ষণিকভাবে ইব্রাহিম ৩০ হাজার টাকা, মুরশিদ ১লাখ টাকা, সালাম ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদের বিষয়ে এখনো কোনো দাবির কথা জানায়নি দস্যু বাহিনীগুলো। ভুক্তভোগীদের স্বজনরা অভিযোগ, এর আগেও একই বাহিনীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। জেলে, মৌয়াল ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জলদস্যুরা অপহরণের বেশি সুযোগ পাচ্ছে। তারা আগের তুলনায় এখন আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠেছে। তারা আরও বলেন, এরা শুধু জেলে মৌয়াল দের অপহরণ করছে না বন্য প্রাণীও শিকার করছে।সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার ফজলুল হক বলেন, কয়েকজন জেলে অপহরণের খবর আমরা শুনেছি। তবে অপহৃতদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছে না।শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত জেলেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কায় তারা পুলিশকে তথ্য দিতে চান না। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

