২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ক্ষমতায় এসেই বিতর্কে বিজয়, বিরোধীদের চাপে টেন্ডার প্রত্যাহার

প্রতিদিনের ডেস্ক:
তামিলনাড়ুতে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগমের (টিভিকে) নবনির্বাচিত সরকার একটি সরকারি টেন্ডার জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বাতিল করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতেই পুরো প্রক্রিয়াটি সাজানো হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ১৯ মে গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের জারি করা একটি টেন্ডার। কাঞ্চিপুরাম জেলায় ৩০,০০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণের জন্য ১৬ লাখ ৮৩ হাজার রুপির এই চুক্তিটি করা হয়েছিল। ওই দিন সকাল ৯টায় টেন্ডারটি প্রকাশ করা হয় এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় দুপুর ৩টা। ফলে সম্ভাব্য দরদাতারা অংশ নেওয়ার জন্য মাত্র ৬ ঘণ্টা সময় পান। টেন্ডারের সময়সূচি অনুযায়ী, ওই দিনই বিকেল ৪টায় দরপত্রগুলো খোলার কথা ছিল।এত কম সময়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্ক্রিনশট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।প্রধান বিরোধী দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) এই ঘটনায় সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।ডিএমকে-র রাজ্য উপ-সম্পাদক আমুথারাসান প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে কোনও কোম্পানি মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবসম্মতভাবে একটি ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ তৈরি এবং সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী এন আনন্দের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক গতি নয়, এটি পূর্বপরিকল্পিত চুক্তির রাজনীতি।নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কেন এমন তাড়াহুড়ো দেখানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আমুথারাসান দাবি করেন, টেন্ডারের শর্তগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যা কেবল ‘একটি কোম্পানির’ অনুকূলে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘তামিলনাড়ু ট্রান্সপারেন্সি ইন টেন্ডারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি করেন। তিনি বলেন, এটি কেবল সন্দেহ নয়, এটি অনিয়মের সরাসরি অভিযোগ।ইন্টারনেটে সমালোচনা তীব্র হওয়ার পর, ওই দিনই টিভিকে সরকার ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে টেন্ডারটি বাতিল করে। তবে টেন্ডার বাতিল করলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। বিরোধী নেতারা টেন্ডার ছাড়ার প্রক্রিয়া এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রেখেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারি চুক্তিতে স্বচ্ছতা নষ্ট করার অভিযোগ ওঠায় এটি সদ্য নির্বাচিত বিজয় সরকারের জন্য প্রথম বড় রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়