প্রতিদিনের ডেস্ক
আজ তিনি বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে এই বিদ্যা বালানকেই চলচ্চিত্র নির্মাতারা ‘অশুভ’ বা ‘অলক্ষুণে’ বলেছিলেন। একের পর এক সিনেমা থেকে বাদ পড়েছেন, প্রতি রাতে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমাতে গেছেন। এমনকি ক্রমাগত প্রত্যাখ্যানের কারণে নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে একসময় আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেও লজ্জা পেতেন তিনি। তবে দমে না গিয়ে সব প্রতিকূলতা জয় করে বিদ্যা আজ নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। খুব অল্প বয়সে জনপ্রিয় টিভি শো ‘হাম পাঁচ’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখলেও চলচ্চিত্রে বিদ্যার শুরুর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুতে টানা ১৩টি প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য দক্ষিণে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মালায়ালম সিনেমার সুপারস্টার মোহনলালের ‘চাক্রম’ ছবির জন্য অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবিটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই ইন্ডাস্ট্রিতে রটে যায় বিদ্যার কারণেই প্রজেক্টটি বন্ধ হয়েছে। রাতারাতি তার হাত থেকে চলে যায় আরও ৮-৯টি সিনেমার প্রস্তাব। নির্মাতারা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে বিদ্যা সিনেমাতে থাকা মানেই প্রজেক্ট ফ্লপ। একটানা ব্যর্থতার পর ২০১০ সালের পর থেকে বিদ্যার ক্যারিয়ারে এক জাদুকরী পরিবর্তন আসে। ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’ ও ‘কাহানি’র মতো ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকদের চমকে দেন।

তবে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ তার পুরো ভাবমূর্তি বদলে দেয়। সিল্ক স্মিতার জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। এই সাফল্যের পর বিদ্যা প্রমাণ করেন যে, কোনো নায়ক ছাড়াই তিনি একাই একটি পুরো সিনেমা টেনে নিয়ে যেতে পারেন। পরবর্তীতে ‘তুমহারি সুলু’, ‘শকুন্তলাদেবী’ ও ‘শেরনি’র মতো চলচ্চিত্রে নিজের দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন বিদ্যা। এমনকি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার ছবি ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-তেও কার্তিক আরিয়ান ও মাধুরী দীক্ষিতের সাথে কাঁধ মিলিয়ে দারুণ সাফল্য পান তিনি। যে অভিনেত্রীকে একসময় ‘অলক্ষুণে’ বলে তাচ্ছিল্য করা হয়েছিল, আজ তিনিই বলিউডের অন্যতম প্রশংসিত তারকা। সূত্র : এই সময়

