মাসুম বিল্লাহ, কেশবপুর
যশোরের কেশবপুরের গোলাঘাটা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার কর্মচারী নিয়োগের নামে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সুপার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কমিটির দুই প্রভাবশালী সদস্যের মধ্যে এ টাকা ভাগবাটোয়ারার খবর রটে গেলে ওই নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন মহল। গত ১৪ এপ্রিল অতি গোপনে নিয়োাগ বোর্ড বসিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এলাকাবাসি জানায়, ১৯৮৫ সালে উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ৮৯ শতক জমির ওপর গোলাঘাটা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসাটি স্থপিত হয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদশূন্য থাকলেও এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ওই শূন্য পদে নিয়োগে নাম সর্বস্ব পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ৮ জন নিয়োগ পেতে আবেদন করেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বরাবর। এরপর মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত হন মাদ্রাসার সভাপতি জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান টিপু ও সুপার গোলাম আজম। মাদ্রাসার নামে জমি ক্রয়ের নাম করে আবেদনকারীদের মধ্যে পরিছন্নতা কর্মী পদে সজীব হোসেনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এ প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিপু ও সুপার গোলাম আজম। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বাকি আবেদনকারীদের পাশ কাটিয়ে গত ১৪ এপ্রিল অতি গোপনে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে তাকে নিয়োগ দেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। মাদ্রাসার নামে জমি ক্রয়ের নাম করে পরিছন্নতা কর্মী সজীব হোসেনের কাছ থেকে গ্রহন করা ১৪ লাখ টাক মাদ্রাসার সুপার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কমিটির দুই প্রভাবশালী সদস্যের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার করে নেওয়ার অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকসহ ওই এলাকার সচেতন মহল অবৈধ ভাবে কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
সরফাবাদ গ্রামের আকবর আলী বলেন, গত ১৪ এপ্রিল অতি গোপনে নিয়োাগ বোর্ড বসিয়ে সজীব হোসেনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে পরিছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ টাকা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, সুপার গোলাম আজম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পৌর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুস ও তার ভাই আবুল কালামের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার তথ্য প্রমান হিসেবে তার কাছে অডিও রয়েছে। তিনি ওই নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মাদ্রাসার দাতা সদস্য মাস্টার আব্দুল জলিল বলেন, ম্যানেজিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যদের পাশ কাটিয়ে অতি গোপনে নিয়োাগ বোর্ড বসিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।। তিনি ওই নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েন। অর্থ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপার গোলাম আজম বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োাগ পেতে ৮ জন আবেদন করেন। বিধি অনুযায়ী গত ১৪ এপ্রিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। টাকা ভাগবাটোয়ারার বিষয় এড়িয়ে গিয়ে মাদ্রাসার সভাপতি জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান টিপু বলেন, বিধি মোতাবেক গত ১৪ এপ্রিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ কাজ সমপন্ন করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে বিধি মোতাবেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের নামে কেউ অর্থ লেনদেন করলে তা প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

