১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বাবুল ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায় হামলায় ৭৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি-লুটপাটের ঘটনার বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিচালিত একটি বাবুল ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন ব্যবসায়ী বাবুল তালুকদার। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত এক লিখিত সংবাদ সম্মেলনে বাবুল তালুকদারের পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মিরাজ ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, যশোরের আরবপুর মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘বাবুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ ২০০৯ সাল থেকে পরিচালনা করে আসছেন বাবুল তালুকদার। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় মরহুম সরদার সাহেবের কাছ থেকে জায়গাটি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন কিস্তিতে মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং সেই জায়গায় কারখানা স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চলতি বছর সরদার সাহেবের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা পূর্বের আর্থিক লেনদেন ও জায়গা ক্রয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে কারখানার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এ নিয়ে কোনো আপস-মীমাংসা বা আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাবুল তালুকদারের দাবি, গত ২৪ মে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আদালতের নির্দেশনা ছাড়াই ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসীরা লোহার রড, শাবল ও হাতুড়ি নিয়ে তার কারখানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা কারখানার বিভিন্ন মেশিন, উৎপাদন সামগ্রী, অফিস কক্ষ ও অবকাঠামো ভাঙচুর করে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। একই সঙ্গে অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। এসব ফুটেজে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি, যশোর জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাবুল তালুকদার প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— মরহুম সরদার সাহেবের সঙ্গে সম্পাদিত ৩৬ লাখ টাকার জমি ক্রয়ের আর্থিক লেনদেনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনি স্বীকৃতি প্রদান, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত কারখানার ক্ষতিপূরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রকাশনা সম্পাদক আদালত ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একটি সচল শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া এবং লুটপাট চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সত্য ঘটনা তুলে ধরে জনমত গঠনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান, বাবুল তালুকদারের পক্ষে তার ছেলে মিরাজ ইসলাম। বক্তব্য শেষে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির যশোর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজ খান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক হারুনু উর রশিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল জলিল, অর্থ সম্পাদক সিরাজুল হক অনিক, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ শাহাদাত হোসেন, ও সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়