ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর দুই ইউনিয়নের মানুষের জন্য একমাত্র সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল খালের ওপর নির্মিত পুরনো একটি সেতু। এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যাওয়ার পর গত নয় মাস ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কার বা নতুন নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রায় নয় মাস আগে সেতুর মাঝখানের বড় অংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। কিন্তু সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে। প্রতিদিন শ’শ’ মানুষ মোটরসাইকেল কাঁধে নিয়ে কিংবা হেঁটে সাঁকো পার হচ্ছেন। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। অসুস্থ রোগীদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা সেতুর দু’পাশে মানুষের দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র। নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। স্থানীয় আবদুল খালেক বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন খরচ ও সময়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা লিখন হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে আট থেকে দশ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময়, ভোগান্তি ও পরিবহন ব্যয়। এছাড়া রোগী নিয়ে ঝিনাইদহ হাসপাতালে যেতে খুব সমস্যা হয়। রাতে জরুরি রোগী হলে বড় বিপদে পড়তে হয়। একটি সেতুর জন্য মানুষের এত কষ্ট হলেও দেখার যেন কেউ নেই। এলাকাবাসী আরও জানান, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও এখনো নতুন সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, সামনে বর্ষা মৌসুমের কারণে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে জনসাধারণের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা,ভারি বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি পেলে অস্থায়ী সাঁকোটিও ভেঙে যেতে পারে। তখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

