২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বিএসইসির চার কমিশনারও পদত্যাগ করেছেন

প্রতিদিনের ডেস্ক:
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পর এবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চার কমিশনারও পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।পদত্যাগ করা চার কমিশনার হলেন—মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন।চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পাশাপাশি কমিশনের চার সদস্যের একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নেওয়া হবে এবং খুব দ্রুতই নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ নানা মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক মাস ধরে শেয়ারবাজারে লেনদেন ও সূচকের দুর্বলতা, বাজারে আস্থার সংকট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কমিশনারদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদায়ী চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সংস্কার এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।তিনি উল্লেখ করেন, গত ২১ মাসে কমিশন পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে মার্জিন ঋণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’ নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, তার নেতৃত্বে কমিশন বাজারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের চর্চা কমিয়ে এনে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি নিয়মভিত্তিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।তবে রাশেদ মাকসুদের দায়িত্বকালজুড়ে দেশের পুঁজিবাজার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। বাজারে ধারাবাহিক দরপতন, লেনদেনের নিম্নমুখী প্রবণতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএসইসির নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়