২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোলে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতন ওভিডিও ধারনের অভিযোগ

আনিছুর রহমান, বেনাপোল
বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা ১০ প্যাকেট ওরিও বিস্কুট কেড়ে নেওয়া এবং তার প্রতিবাদ করায় বিজিবি সদস্য কর্তৃক এক ব্যবসায়ীকে ক্যাম্পে আটকে রেখে ২-৩ ঘণ্টা ধরে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে জোরপূর্বক ‘নির্যাতন করা হয়নি’ মর্মে ভিডিও ধারণ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার ৫ জুন নাভারন তার ব্যবসায়িক অফিসে লিখিত বক্তব্য চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ‘রয়্যাল ক্যাফে’ (ROYAL cafe)-র ডিলার মোঃ শিমুল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী মোঃ শিমুল হোসেন জানান, গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে তিনি বেনাপোল চেকপোস্টের একটি খাবারের দোকান থেকে নিজের ব্যবহারের জন্য ১০ প্যাকেট ওরিও বিস্কুট কেনেন। বিস্কুট নিয়ে নাভারণে ফিরে আসার পথে বেনাপোলের ১ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে সেখানে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা তার কাছ থেকে বিস্কুটগুলো কেড়ে নেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিস্কুটগুলো ফেরত চাইলে বিজিবি সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক ক্যাম্পের ভেতরে ধরে নিয়ে যায়। শিমুল হোসেন অভিযোগ করেন, ক্যাম্পে তাকে টানা ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়। এ সময় ‘রতন’ নামের এক বিজিবি সদস্য তার ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালান। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও জানান, নির্যাতনের পর তাদের শেখানো কথামতো “বিজিবি কোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন করেনি” বলে জোরপূর্বক একটি ভিডিও রেকর্ড করা হয়। বিজিবির হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি নাভারণ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে ব্যবসায়ী মোঃ শিমুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন বৈধ ব্যবসায়ী হয়েও সামান্য ১০ প্যাকেট বিস্কুটের জন্য তাকে যে ধরনের বর্বর নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি তার ওপর হওয়া এই অন্যায়ের সঠিক বিচার এবং দোষী বিজিবি সদস্য রতনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়