২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ডুমুরিয়ায় সরকারি দামে ধান সংগ্রহ নিয়ে নানা প্রভাবশালীদের অনিয়ম

সৈকত হোসেন
ডুমুরিয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি উদ্যোগে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালীদের কালো থাবা ও কৃষি অফিসের উদাসীনতায় এ বছর সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রকৃত কৃষক। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে উপজেলায় বোরো মৌসুমে ২ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় সরকার। ১৪’শ ৪০ টাকা মণ দরে প্রতি কৃষকের নিকট থেকে ১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার। এখানে ২ হাজার ৪৭৬ জন অনলাইনে আবেদন করেছে। যারা আবেদন করে ধান বিক্রি করছেন তাদের মধ্যেই বেশির ভাগই কৃষক নয়! কৃষি এ্যাপসের মাধ্যমে আবেদন নিয়েও ছিলো বিড়ম্বনা ও অনিয়ম! এবছর কৃষি কার্ডের পরিবর্তে শুধুমাত্র এনআইডি কার্ড দিয়েও আবেদন করা গেছে। যার কারণে একটি অসৎ চক্রটি গ্রামাঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষের এনআইডি সংগ্রহ করে অহরহভাবে আবেদন করেছে। গত ৬ মে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ২০ মে আবেদনের ছিলো শেষ সময়। কৃষকদের অভিযোগ, ধান সংগ্রহ সংক্রান্তে এলাকায় নামমাত্র প্রচার করা হয়। যদিও কৃষি অফিস বলছে প্রত্যেক ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু সেই সময়টা ছিলো কৃষকদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়। কারণ বৈরী আবহাওয়া জনিত কারণে এবছর কৃষকদের বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আবার প্রভাবশালীদের আধিপত্যের কাছে এরকম অভিযোগ আমলে আসেনা। এ ধরনের নানা কারণে শ’ শ’ দরিদ্র কৃষক এ বছর সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গুটুদিয়া গ্রামের কৃষক শংকর মহলদার জানান, ‘ধান সংগ্রহ সংক্রান্তে কখন মাইকিং হয়েছে তা তিনি জানেন না। যখন ধান ঘরে তুলে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন শোনেন আবেদনের সময় নেই।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর ধান উৎপাদনে ব্যাপক খরচ হয়েছে। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়াসহ ১২’শ থেকে ১৪’শ টাকা প্রতি জন এবং দ্বিগুণ বাড়তি মূল্যে ডিজেল ক্রয় করার ফলে কৃষকরা নাজেহাল হয়ে পড়ে। সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পারায় ১ হাজার টাকা মণ দরে তিনি ধান বিক্রি করেন।’ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আমিনুর রহমান বুলবুল জানান, ‘কৃষি এ্যাপসের তালিকা মোতাবেক কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এপর্যন্ত ৪৫০ মেট্রিক টনের বেশি ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ্যাপসে আবেদনে জঠিলতাসহ নানা কারণে প্রকৃত কৃষক ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হয়েছে এটা সঠিক। তবে গোডাউনে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। কিছু প্রভাবশালী লোকজনের চাপ রয়েছে, তবে ধানের গুণাগত মান সঠিক না হলে ধান নিচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘আবেদন গ্রহণের প্রথম দিকে সার্ভায়ারে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে আবেদনের মেয়াদ আরো ১৫ দিন বৃদ্ধি করে সরকার।’ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা জানান, ‘কৃষি অফিসের আইডিতে যে আবেদন এসেছে, তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এক একজন ৪/৫টি করে আবেদন নিয়ে এসেছে। ওখান থেকে দু’এক জনকে ফোন করে খোঁজ নেয়া হয়েছে, সে প্রকৃত কৃষক কিনা জানতে। কৃষিকার্ড ছাড়া এনআইডি’র সংযুক্ত আবেদন গ্রহণ করার কারণে অনেক অকৃষকের আবেদন মঞ্জুর হতে পারে। কারণ এই অল্প সময়ের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা দুরূহ ব্যাপার।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়