২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অস্ট্রেলিয়ার খনি কম্পানিগুলো ভরসা এখন ভারত-দক্ষিণ এশিয়া

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইস্পাতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার লৌহ আকরিক খনি কম্পানিগুলো বলছে, এই বাড়তি চাহিদা তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদক দেশ। তবে দেশটির আবাসন ও নির্মাণ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কারণে ইস্পাতের চাহিদা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে লৌহ আকরিক ও ধাতব কয়লার বাজারেও। অস্ট্রেলিয়ার খনি কম্পানিগুলো শুধু চাহিদা কমার সমস্যাতেই নেই, তারা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রেতা প্রতিষ্ঠান চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ (সিএমআরজি)-এর চাপের মুখেও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কাঁচামাল কিনতে এবং সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আরো সুবিধাজনক শর্ত আদায় করতে চেষ্টা করছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ ভারত।
বর্তমানে দেশটির বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ টন। ভারত সরকার ২০৩৫-২০৩৬ সালের মধ্যে এই উৎপাদন বাড়িয়ে ৪০ কোটি টনে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য চীনের বর্তমান প্রায় ১০০ কোটি টন উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। তবে এত বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ লৌহ আকরিক এবং ধাতব কয়লার প্রয়োজন হবে।ধাতব কয়লা ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।
এই ক্ষেত্রে ভারত নিজের চাহিদার বেশির ভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। বিশ্বের অন্যতম বড় ধাতব কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএইচপি। সিঙ্গাপুরের সম্মেলনে কম্পানিটির গ্রুপ বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা মিশিয়েল হোভার্স বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ধাতব কয়লার চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ভবিষ্যতে বিশ্ব ইস্পাত শিল্পের অন্যতম বড় প্রবৃদ্ধির বাজার হয়ে উঠবে। রিও টিন্টোর প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা বোল্ড বাতারও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে ইস্পাতের চাহিদা বাড়ায় চীনের মন্দার বাজারের প্রভাব কিছুটা কমে আসবে।
চীনের ভূসম্পত্তি খাতের সংকট এখন টানা পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এক সময় এই খাতই দেশটির ইস্পাতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল। কিন্তু নির্মাণ খাতের ধীরগতির কারণে ইস্পাতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর ফলে ২০২৫ সালে চীনের ইস্পাত উৎপাদন সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনে চাহিদা কমে যাওয়ায় লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ আরো বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএমআরজির কঠোর ক্রয়নীতি।চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য কম দামে কাঁচামাল নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, চলতি বছরও চীনের বাজারে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা কম। সিঙ্গাপুরের ওই সম্মেলনে চীনের এক শিল্প সংগঠনের উপমহাসচিব জিনকুই ঝাও বলেন, এ বছরও দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা কমতে পারে।
সব মিলিয়ে চীনের বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা অস্ট্রেলিয়ার খনি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়