প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাশিয়া-আসিয়ান (ASEAN) কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনের এই সম্মেলন আজ বুধবার (১৭ জুন) কাজানে শুরু হচ্ছে। এই সম্মেলনের আয়োজক হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আসিয়ানের সদস্য দেশ ও অংশীদারদের মোট ১৪টি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ৮ হাজারেরও বেশি অতিথির উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।১৭ জুন পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র (ফিলিপাইন), আনোয়ার ইব্রাহিম (মালয়েশিয়া), ব্রুনেই সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদ্দৌলাহ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকগুলোর পর একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।১৮ জুন কাজান এক্সপো কেন্দ্রে সম্মেলনের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণকারীদের যৌথ ছবি তোলা, পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (প্লেনারি সেশন) এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সম্মেলন শেষে কয়েকটি যৌথ নথি গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এছাড়া ১৭ জুন বাশির রামিয়েভ আইটি পার্কে রাশিয়া-আসিয়ান ব্যাবসায়িক ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে। ফোরামে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), জ্বালানি, পরিবহন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে Eurasian Economic Union (ইএইইউ) ও আসিয়ানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।
আসিয়ান কী?
আসিয়ান (ASEAN) এর পূর্ণ নাম Association of Southeast Asian Nations (দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা)। এটি একটি আঞ্চলিক আন্তঃসরকারি সংগঠন যা ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।আসিয়ানের ১০টি সদস্য দেশ হলো- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার।
আসিয়ানের সদর দপ্তর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত।
প্রধান উদ্দেশ্য
১) আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা
২) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য বৃদ্ধি
৩) নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা
৪) শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ
বর্তমানে আসিয়ান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক জোট হিসেবে বিবেচিত হয়। এর সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ৬৮ কোটির বেশি এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

