প্রতিদিনের ডেস্ক:
চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ডিপসিক-কে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। যদিও মার্কিন প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে, তবুও এখনই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ‘এনটিটি লিস্ট’-এ ডিপসিককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।এনটিটি লিস্ট হলো এমন একটি তালিকা, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসা পরিচালনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।এর আগে ২০১৯ সালে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে-কে এই তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে দেশটিতে কোম্পানিটির কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের নাম এনটিটি লিস্টে যুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ডিপসিকও ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জটিল না করতে আপাতত এই পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ডিপসিককে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে চলতি সপ্তাহে প্রথম অর্থায়ন পর্বে ৫০ বিলিয়ন ইউয়ানের (প্রায় ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে ডিপসিক। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে।ডিপসিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তাদের উন্নত এআই মডেল ওপেন-সোর্স হিসেবে উন্মুক্ত রাখা। এমআইটি লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহারকারীরা এসব মডেল বিনামূল্যে ডাউনলোড, ব্যবহার ও পরিবর্তন করতে পারেন।অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাস রাজ্য সরকার ডিপসিককে সরকারি ডিভাইসে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি প্রযুক্তি পণ্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা বেড়েছে। ওয়াশিংটন প্রশাসন এর আগে টিকটক এবং ডিজেআই-এর মতো চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি চীনা পণ্য, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধও কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

