চৌগাছায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাত বছর একই কর্মস্থলে: বদলি ঠেকাতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন

নাসরিন আক্তার, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রায় সাত বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহল, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সম্প্রতি তার নিয়মিত বদলির আদেশ জারি হলেও সেই আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং বদলি ঠেকাতে শিক্ষকদের দিয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ২০১৯ সালে চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মোস্তাফিজুর রহমান ধীরে ধীরে প্রভাবশালী একটি বলয় গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিজের অনুকূলে পরিচালনা করেন এবং দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে অবস্থান করে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেন। শিক্ষা বিভাগের নানা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই উপজেলার প্রায় ২০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ভবন বিক্রির অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়া হলেও বাকি অর্থের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিক্ষক বদলি, প্রশাসনিক অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি দ্রুত নতুন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে নিজ অবস্থান অটুট রাখেন। ফলে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন অনেকে। সম্প্রতি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের কারণে তার নিয়মিত বদলির আদেশ জারি হয়। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দিয়ে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন। কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে অথবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে গণস্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কেউ স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক হয়রানি কিংবা বদলির পর ফিরে এলে চাকরিতে সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক নেতাদের একাংশের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বার্থে শিক্ষক-কর্মচারীদের এভাবে ব্যবহার করা হলে শিক্ষা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বদলির আদেশ জারির প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এদিকে, স্থানীয় মহলে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। তিনি উপজেলার এক বিধবা নারীর সাথে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের চাপে ঐ নারীকে বিয়ে করেন তিনি। অনৈতিক এসব বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়