‘বিশ্ববাসীর সম্মান অর্জন করেছে মরক্কো’

প্রতিদিনের ডেস্ক:
নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর উচ্ছ্বসিত মরক্কো কোচ মোহামেদ উয়াহবি বলেছেন, এই জয় তার দলের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। মন্টেরেতে নাটকীয় ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার দলটি। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানো থেকে শুরু করে টাইব্রেকারের চাপ সামলে জয়ের পথ তৈরি, সব মিলিয়ে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে তারা বড় মঞ্চের দল।সোমবার পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করার পর মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেছেন, ‘তার দল সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছে।’তিনি আরও জানান, দেশে বসে খেলা দেখা লাখ লাখ মানুষকে গর্বিত করার ইচ্ছাই তার খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করেছিল।মরক্কো ডাচদের পেনাল্টিতে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করে (নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর) শেষ ১৬-তে স্থান নিশ্চিত করেছে, যেখানে তারা সহ-আয়োজক দেশ কানাডার মুখোমুখি হবে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ক্রিসেনসিও সামারভিলের শটটি ঠেকিয়ে দেওয়ার পর, ইসমায়েল সাইবারি জয়সূচক পেনাল্টি গোলটি করেন। সাংবাদিকদের ওয়াহবি বলেন, ‘মরক্কো এখন সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। এটা আমাদের মুখের কথার জন্য নয়, আমরা এখন সেটি মাঠে করে দেখিয়েছি।’
মরক্কোর অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে কোচের দায়িত্ব পাওয়া ওয়াহবি, যিনি দেশটির যুব দলগুলোকে সাফল্য এনে দিতে সাহায্য করেছেন, তিনি বলেন যে তার খেলোয়াড়রা ফুটবলের চেয়েও বড় কোনো কিছুর দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।তিনি বলেন, ‘এই দল এবং মরক্কোর সমস্ত যুব দল কেবল ফুটবল খেলা বা একটি ম্যাচ জেতার চেয়েও অনেক বড় কিছুর জন্য লড়াই করছে। তারা জানে যে তাদের পেছনে লাখ লাখ মানুষ রয়েছে। মরক্কোতে যখন রাত দুটো বাজছিল, তখনও আমরা খেলেছি এবং আমরা নিশ্চিত যে বেশিরভাগ মানুষই জেগে ছিলেন। এই বিষয়টিই আপনাকে হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার শক্তি দেয়।’
ওয়াহবি বলেন, ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালেও মরক্কোই পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নেদারল্যান্ডস দলের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছিলাম। আমাদের ৭০% বল পজিশন ছিল, শট বেশি ছিল এবং গোল করার সম্ভাবনাও বেশি ছিল। আমরা ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। আমরা শান্ত থাকতে চেয়েছিলাম, নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে চেয়েছিলাম এবং বিশ্বাস রেখেছিলাম যে ম্যাচ পেনাল্টিতে গড়ালে আমাদের একজন অসাধারণ গোলরক্ষক আছেন। আমরা ম্যাচটিকে কোনো বিশৃঙ্খল লড়াইয়ে রূপ নিতে দিইনি, বরং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম।’
ওয়াহবি জানান, নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক কৌশল তাকে কিছুটা অবাক করেছিল, তবে একে মরক্কোর ক্রমবর্ধমান মর্যাদার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আসলেই নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে এমন লো ব্লক (খুব নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলানো) আশা করিনি, কারণ ডাচরা বল নিজেদের পায়ে রাখতে পছন্দ করে এবং বল পায়ে থাকলে তারা বেশ শক্তিশালী। আমি তাদের এই ধরনের খেলাকে আমাদের প্রতি এক ধরণের সম্মান হিসেবেই দেখেছি।’৪৯ বছর বয়সী এই কোচ মনে করেন, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠার সাফল্য দেশের মানুষের মানসিকতা বদলে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে মরক্কোর খেলোয়াড়রা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখছে এবং সমর্থকেরাও আমাদের ওপর আস্থা রাখছে।’
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করে, স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারিয়ে নকআউটে ওঠা মরক্কো এবার নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে আরও একবার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল। টাইব্রেকারে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ইসমাইল সাইবারির জয়সূচক শটে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক কানাডা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়