শিক্ষা কর্মকর্তার পরিচয়ে মণিরামপুরে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় প্রতারক চক্র

জি এম ফারুক আলম, মণিরামপুর
মণিরামপুরে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরনের পর থেকেই টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারকচক্র। গত ২৯ জুন অভিভাকদের খোলা হিসেবে নম্বরে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিতে শিক্ষা অফিসের পরিচয় দিয়ে নিয়ে নিচ্ছে গোপন পিন ও ওটিপি নম্বর। প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক অভিভাবক গোপন নম্বর দিয়ে দেওয়ায় উপবৃত্তির অর্থ পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, এ উপজেলায় ১১৮টি মাধ্যমিক ও নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৯টি মাদ্রাসা ও ১৩টি কলেজ রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম এবং কলেজ পর্যায় একাদশ থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পায়। বছরে দুইবার উপবৃত্তি পেয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। শুধু চলতি বছরই ৬ষ্ঠ শ্রেনির তিন হাজার ৬৯৪ জন উপবৃত্তির আওতায় এসেছে। গত ২৯ জুন অভিভাকদের খোলা হিসেব নম্বরে (ব্যাংক, নগদ ও বিকাশ) এই উপবৃত্তির টাকা এসেছে। এরপর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিতে অভিভাকদের মোবাইল ফোনে কল করে গোপন পিন ও ওটিপি নম্বর নিচ্ছে। অনেক অসচেতন অভিভাবক না বুঝেই এসব গোপন তথ্য দিয়ে দিয়েছেন। উপজেলার রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক নাজমুল হোসেন, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, ফাতেমা খাতুন, আবু আব্দুল্লাহসহ অনেকেই জানান, তাদের কাছে ফোন দিয়ে এসব তথ্য জানতে চেয়েছে। বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই দিয়েও দিয়েছেন।
উপজেলার নাগোঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত অভিভাবক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে গোপন নম্বন দিয়ে দিয়েছেন। কালারহাট মাধ্যমিক বিদালয়ের অভিভাবক মুক্তা খাতুন জানান, গত রাতে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে ফোন করে গোপন তথ্য চাই। বিভ্রান্ত হয়ে দিয়ে দেন। বুঝতে পেরে পরদিন সকালে পেন নম্বর পাল্টান। একই বিদ্যালয়ের ফয়সাল কবীর, ফাহিম বিল্লাহ রাজুর অভিভাবকসহ অনেকেরই কাছে ফোন করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারভ্রাপ্ত) মোজাফ্ফর হোসেন জানান, উপবৃত্তির টাকা বিতরনের পর থেকে এ ধরনের অভিযোগ অহরহ আসছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়