ড. হারুন রশীদ
প্রতি বছর ১১ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। দিবসটি কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির হিসাব-নিকাশের জন্য নয়; বরং জনসংখ্যা, উন্নয়ন, মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের ধরন ভিন্ন। কোথাও জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে খাদ্য, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও জন্মহার এতটাই কমে গেছে যে শ্রমশক্তির ঘাটতি ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপ রাষ্ট্রকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বাংলাদেশের মতো একটি দেশে তাই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—জনসংখ্যা কি আমাদের জন্য সম্পদ, নাকি বোঝা? এর উত্তর সরল নয়। কারণ জনসংখ্যা নিজে কখনো সম্পদ বা বোঝা নয়; রাষ্ট্র ও সমাজ কীভাবে সেই জনসংখ্যাকে গড়ে তোলে, সেটিই নির্ধারণ করে মানুষ দেশের শক্তি হবে, নাকি সংকটের কারণ হবে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের জনসংখ্যা বর্তমানে ৮০০ কোটিরও বেশি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত মানুষ আগে কখনো ছিল না। একই সঙ্গে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে খাদ্য, পানি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয়, নগরায়ণ ও অভিবাসনের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ছোট দেশগুলোর একটি হলেও জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজারের বেশি মানুষের বসবাস পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখা যায়। ফলে সীমিত ভূমি, কৃষিজমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
অনেকেই এই বাস্তবতাকে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখেন। তাদের যুক্তি, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে শহরে যানজট বাড়ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাপ বাড়ছে, স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয়, কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ঢাকা শহরের দিকে তাকালেই এই যুক্তির বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসেবে ঢাকায় বসবাস, চলাচল এবং মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে জনসংখ্যাকে কেবল বোঝা হিসেবে দেখার মধ্যেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে বহু দেশ জনসংখ্যাকে উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে রূপান্তর করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা পরবর্তীকালে চীন যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার পেছনে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদ ছিল সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাই আধুনিক অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
বাংলাদেশও তার কিছু ইতিবাচক উদাহরণ দেখিয়েছে। স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে প্রায়ই “তলাবিহীন ঝুড়ি” বলা হতো। কিন্তু গত পাঁচ দশকে কৃষি উৎপাদন, তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটি উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এসব ক্ষেত্রেই জনসংখ্যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। বর্তমানে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” বা জনমিতিক লভ্যাংশ। যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেশি থাকে এবং নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত তুলনামূলক কম থাকে, তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
কিন্তু এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। ইতিহাস বলছে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসে এবং যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে তা হারিয়েও যায়। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যদি বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া না যায়, তাহলে সম্ভাবনাময় জনসংখ্যাই সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে।বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দিকে তাকালে উদ্বেগের কারণও দেখা যায়। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু সেই অনুপাতে মানসম্পন্ন চাকরি তৈরি হচ্ছে না। উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক তরুণ তাদের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে শিল্প খাত ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলও পর্যাপ্ত নয়। অর্থাৎ শ্রমশক্তি আছে, কিন্তু দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
এখানেই জনসংখ্যা নীতির গুরুত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জনসংখ্যা নীতির মূল লক্ষ্য ছিল জন্মহার নিয়ন্ত্রণ। সেই লক্ষ্য অর্জনে দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় কেবল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়। এখন প্রয়োজন জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরের নীতি।বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমরা কত মানুষ আছি, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের মানুষগুলো কতটা দক্ষ, সুস্থ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল?
বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর একটি হলো জনশক্তি রপ্তানি। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তাঁদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ অভিবাসী শ্রমিক এখনও স্বল্পদক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যান। ফলে তাঁরা তুলনামূলক কম মজুরি পান এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারেন না।
জনশক্তি রপ্তানি থেকে আয় আরও বাড়াতে হলে সংখ্যার চেয়ে দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বের শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ, জাহাজশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বয়স্ক সেবা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষাশিক্ষা এবং পেশাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে একই সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েও কয়েক গুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন দক্ষ নার্স, ওয়েল্ডার, মেশিন অপারেটর বা আইটি বিশেষজ্ঞের আয় কয়েকজন অদক্ষ শ্রমিকের সম্মিলিত আয়ের সমান হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে আগামী দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি হতে পারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, যা শুধু রেমিট্যান্সই বাড়াবে না, বরং দেশের মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক মূল্যও বৃদ্ধি করবে।
আজকের বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা কেবল সংখ্যার নয়, দক্ষতারও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে কম দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে। ফলে বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন ও জনসংখ্যা নীতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর শিক্ষা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত হলে পরিবার ছোট হয়, শিশুর স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতায়ও এই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসংখ্যার বার্ধক্য। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা তুলনামূলক তরুণ হলেও আগামী কয়েক দশকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই এখন থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবসরকালীন সুরক্ষার পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। জনসংখ্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্কও এখন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জনসংখ্যা পরিকল্পনাকে পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির সঙ্গে সমন্বিত করাও জরুরি।
বাংলাদেশের জন্য তাই একটি আধুনিক জনসংখ্যা নীতির কয়েকটি মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। প্রথমত, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নকে কেন্দ্রীয় লক্ষ্য করা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। তৃতীয়ত, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। চতুর্থত, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে আরও সুযোগ সৃষ্টি। পঞ্চমত, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। এবং ষষ্ঠত, জলবায়ু ও নগরায়ণের বাস্তবতা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষই উন্নয়নের মূল শক্তি। কিন্তু মানুষ তখনই সম্পদে পরিণত হয়, যখন তার মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। অন্যথায় একই জনসংখ্যা রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের সামনে তাই দ্বৈত বাস্তবতা। একদিকে বিপুল জনসংখ্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে এটিই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। পার্থক্য গড়ে দেবে নীতি, পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের মান।
আজ প্রশ্নটি জনসংখ্যা বেশি না কম—সেটি নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, আমরা কি আমাদের মানুষের ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারছি? কারণ একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে কোনো দেশের প্রকৃত সম্পদ তার মাটি, নদী কিংবা খনিজ নয়; তার মানুষ। সেই মানুষকে যদি আমরা দক্ষ, সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল নাগরিকে রূপান্তর করতে পারি, তবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কখনোই বোঝা হবে না; বরং সেটিই হবে আমাদের উন্নয়নযাত্রার সবচেয়ে বড় পুঁজি।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।
