কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাটে চাকলাদার আবুল কালাম (৬০) নামে এক বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রনবিজয়পুর গ্রামের নিজ বসত ঘরের খাটের উপর বসা অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। চাকলাদার আবুল কালাম বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রনবিজয়পুর গ্রামের প্রয়াত চাকলাদার হাতেম আলীর ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি গত এক বছরের বেশি সময় ধরে একাই তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাগেরহাট শহরে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেন। কালামের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম বলেন, বনিবনা না হওয়ায় আমার ভাসুর কালামকে ছেড়ে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাগেরহাট শহরে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করায় গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একা তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তারা চলে যাওয়ার পর থেকে আমার ভাসুর কালামকে তিনবেলা খাবার আমি দিয়ে আসছি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাত দশটার পরে তাকে ডেকে খাবার দেন। শনিবার সকালে তাকে ভাত দিতে এসে ডাকাডাকি করতে থাকি। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখি তিনি গলায় কাপড় পেচানো অবস্থায় বসে আছেন। এই দেখে আমি ডাকচিৎকার করতে থাকি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু বলেন, কালাম দলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়ি এসে দেখি তার শোয়ার খাটে বসা। গলায় কাপড় পেচানো। যেভাবে গলায় কাপড় পেচানো তাতে মনে হয়নি সে আত্মহত্যা করেছে। এভাবে আত্মহত্যা করা যায় না। আমরা তার এমন মৃত্যুতে ব্যথিত হয়েছি। তার মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করতে পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে সেই দাবি জানাচ্ছি। সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতা কালামের মরদেহ খাটের উপর গলায় কাপড় পেচানো অবস্থায় উদ্ধার করেছে। শুক্রবার রাতের কোন এক সময়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। শনিবার দুপুরে বিএনপি নেতা কালামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বলা সম্ভব হবে।
