এম এ রহিম, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুকুর সংস্কারের নামে মাটি বিক্রির উৎসব চলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, রাতে-দিনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জেল-জরিমানা, মাটি পরিবহনের ট্রাক্টর জব্দসহ নানামুখী পদক্ষেপেও থামছে না মাটি খেকোদের দৌরাত্য। বিশেষ করে শীত মৌসুমেই এ উপজেলার বিভিন্ন নদীরপাড়, খাল, পুকুরসহ ফসলি জমির উর্বর মাটি লুট করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব মাটি পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে মাটি পাকা সড়কে পড়ে রাতের কুয়াশায় পিচ্ছিল হচ্ছে সড়ক। নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়কগুলো আর এই কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন মোটরসাইকের আরোহীসহ পথচারীরা। জানা যায়, আমন ধান উঠার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে শুরু হয়েছে পুকুর সংস্কার, ফসলি জমি উচু-নিচু সমান, ফসলি জমিতে পুকুর খনন, নদীর পাড় কাটা, খালের মাটিকাটাসহ মাটির বিক্রির উৎসব চলছে। এসব মাটি স্থানীয়দের কাছে বিক্রির পাশাপাশি বেশির ভাগ মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এদিকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। তবুও দিনে রাতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে চলছে মাটি কাটার উৎসব। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে উপজেলার হাকিমপুর, স্বরুপদাহ, সিংহঝুলী, পাশাপোল, নারায়নপুর, পাতিবিলা, জগদিশপুর ও সুখপুকুরিয় ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে মাটি খেকোরা। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের সাঞ্চডাঙ্গা ও পাশের গ্রামে কমলাপুর এলাকা থেকে দিনে রাতে সমানতালে ট্রাকে করে মাটি যাচ্ছে কমলাপুর মোড়ের সানি ব্রিক ও এম ডব্লু ইউ বি ইটভাটায়। এলাকবাসীর অভিযোগ পুকুরের কাঁদামাটি ট্রাকে বোঝাই করে ইটভাটায় নেওয়ার সময় কাঁদা রাস্তায় পড়ে পিচের উপর হাটু কাঁদার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া কাঁদা-ধুলায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্র্র্থীদের চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম ডব্লু ইউ বি ইটভাটার ম্যানেজার নুর আলম বলেন, আমাদের ভাটাই সাঞ্চডাঙ্গা এলাকা থেকে মাটি আসছিল। সেটা উপজেলা প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পাশের সানি ভাটা কমলাপুর থেকে মাটি কাটছে। এম ডব্লু ইউ বি ইটভাটার মালিক জিলান শেখ বলেন, পুকুর সংস্কার করা জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। সংস্কার করে পুকুরে পাড় না দিয়ে ভাটাই কেননিয়ে যাচেছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তায় যে কাঁদা-মাটি পড়েছিল তা আমার লোকদিয়ে পরিস্কার করে দিয়েছি। এখন আপনি বললেন আমি আবারো লোক লাগিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করার ব্যবস্থা নেব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, পুকুর সংস্কার নামে কেউ যদি ইটভাটায় মাটি নিয়ে যায় সেটাস¤পূর্ণ অবৈধ। কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া ইতোমধ্যেই বেশকিছু ভেকু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

