২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

প্রশাসনের বাধায় রক্ষা পেল শ্যামনগরের মিজান হুজুরের কথিত মাদ্রাসা, ৫ দফা দাবি

উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর বাধায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নিজেকে পীর দাবি করা আলোচিত মিজান হুজুরের মাদ্রাসা ভাংচুর থেকে রক্ষা পেয়েছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি(শুক্রবার) জুমার পর কয়েকশ মুসল্লী উক্ত মাদ্রাসাকে ‘ভন্ড পীরের আস্তানা’ আখ্যায়িত করে গুড়িয়ে দিতে অগ্রসর হলে পথিমধ্যে তাদের আটকে দেয়া হয়। এসময় মিজানকে গ্রেপ্তারে আগামী সোমবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৭২ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে কর্মসুচি স্থগিত করে মুসল্লিরা। শিরক ও বিদআতমুলক কাজে মিজান অভ্যস্ত দাবি করে উপজেলা বাতিল প্রতিরোধ কমিটি ও ওলামা পরিষদ শুক্রবার বিকাল তিনটায় মিজানের মাদ্রাসা অভিমুখে পদযাত্রা ঘোষনা করে।এর আগে ঘোষনা দিয়ে উক্ত মাদ্রাসা গুড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলার বংশীপুর থেকে সহস্রাধিক মুসল্লি উক্ত মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করে। পরে ধুমঘাটের আন্তাখালী মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা। সমাবেশে উপজেলা বাতিল কমিটির সভাপতি মুফতি আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে বক্তারা ধুমঘাট অন্তাখালীর মিজানুর রহমানকে ‘ভন্ড’ অ্যাখা দিয়ে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তারসহ তার ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড বন্ধে ৫ দফা দাবিতে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেন বিক্ষোভকারী তৌহিদী জনতা।এছাড়াও মাদ্রাসার নামে সেখানে অনৈসলামিক কর্মকান্ড পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে পীর দাবিকারী মিজানুর রহমান একজন ভন্ড বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।বিক্ষোভকারী তৌহিদী জনতা যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সেগুলো হলো- ভন্ড মিজানকে মাদরাসার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে, একটি কার্যকরি কমিটি গঠন করতে হবে, মাদ্রাসায় নতুন পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে, আলেমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, ভন্ড মিজানকে গ্রেফতার পূর্বক যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।জানা যায়, উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট অন্তখালী গ্রামে উক্ত মাদ্রাসা অবস্থিত। প্রায় ২০ বছর পুর্বে মাওলানা আব্দুস সবুরের প্রতিষ্ঠিত ঐ মাদ্রাসার দায়িত্ব পাওয়ার পর মিজানুর রহমান সেখানে নানা ধরনের কুফরী কার্যক্রম চালুসহ নিজেকে ‘পীর’ দাবি করে বসে। পরবর্তীতে আব্দুস সবুরসহ অন্যান্য ওলামা মাশায়েখরা মিজানকে ভন্ড ঘোষনা করলে তার আস্তানাকে গুড়িয়ে দিতে একে একে নানা কর্মসুচি দেয় স্থানীয় মুসল্লিরা।এবিষয়ে মিজানুর রহমান জানান, আল্লাহ তাকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়ায় তিনি নিজের মত করে মাদ্রাসা চালাচ্ছেন। তাকে মাদ্রাসা থেকে তাড়াতে ষড়যন্ত করছে কিছু মানুষ।উপজেলা বাতিল প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মোখলেছুর রহমান জানান, নিজেকে পীর দাবি করে ভন্ড মিজান নিজের আস্তানায় নানান ইসলামবিরোধী কর্মকান্ড করছে। বাইতুল মোকারামের খতিব আব্দুল মালেক মিজানকে পথভ্রষ্ঠ আখ্যা দিয়েছে। সোমবারের মধ্যে আইনী পদক্ষেপ নেয়া না হলে তার আস্তানা ধ্বংস করা হবে বলেও তিনি ঘোষনা দেন। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, মুসল্লিদের কাছে মিজানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ লিখিত আকারে প্রমানসহ দিতে বলা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন জানান, দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে প্রশাসন চেষ্টা করছে। আইনকে কারও নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিমাংসায় দু’পক্ষকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়