উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য প্রতি বছরের মতো এ বছর ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র গুলো কে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। পর্যটকদের ভ্রমণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনের বনবিভাগ পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের পর্যটন স্পটগুলোর মধ্য অন্যতম হলো সুন্দরবনের কলাগাছিয়া, দোবেকি ইকোট্যুরিযম কেন্দ্র ও সাগর কন্যা নামে খ্যাত মান্দার বাড়িয়া। এছাড়াও শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর পিকনিক কর্নার ও সুন্দরবনের কল ঘেঁষে গড়ে ওঠা আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার।পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে পর্যটন ব্যবসায় গতি ফিরবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আত্মীয়তার পসরা সাজিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনে ঘুরতে এরই মধ্যে ট্রলার(বোট) বুকিং দিয়েছেন অনেকেই। এদিকে পর্যটক ঘুরতে আসবেন এমন আশায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে বন বিভাগ।পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মসিউর রহমান বলেন, এবার ঈদে লম্বা ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হবে সুন্দরবন। সাতক্ষীরা রেঞ্জ এর ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র, কলাগাছিয়া, দোবেকি এ এক্সপার্টগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে গুড়ে তোলা হয়েছে। তাছাড়া সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা ও পর্যটকদের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য বন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে। আশা করছি এবার সুন্দরবনে বেশি পর্যটক আসবে এবং দ্বিগুণ রাজস্ব আয় হবে।সরেজমিনে সুন্দরবনের আকাশলীনা কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সু-সজ্জায় সজ্জিত ও সাজ সাজ রব।বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, সুন্দরবনের কলাগাছিয়া, দোবেকি ইকোট্যুরিজম সেন্টার ইতিমধ্যে খুবিই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে পর্যটকরা মাত্র আড়াই ঘণ্টায় শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ, কলবাড়ী আকাশলীনা ও নীলডুমুর পর্যটন স্পটগুলোতে পৌঁছাতে পারবে। এখানে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থার জন্য হোটেল এবং আবাসিক হোটেল এর সু-ব্যবস্তা রয়েছে।স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী (ট্রলার মালিক) নুর ইসলাম, আব্দুল হাকিম বলেন এবার ঈদের ছুটিতে ইতোমধ্যে তাদের অনেকের (বোট) ট্রলার বুকিং হয়ে গেছে। যারা বুকিং দিয়েছেন তারা সুন্দরবন দেখার অপেক্ষায় আছেন। ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহ দেখে ট্রলার মালিক গণ বলেন অন্যান্য বারের তুলনায় এবার সুন্দরবনে বেশি পর্যটক আসবে বলে আমরা আশা করছি।সাতক্ষীরা জোন টুরিস্ট পুলিশ এর (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সুজিত কুমার বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবং আমাদের প্রতিটি সদস্যদের পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ শেষে বাড়িতে ফিরতে পারেন। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনী খাতুন বলেন, দেশের সর্ব দক্ষিণে সাতক্ষীরা শ্যামনগরে গড়ে উঠা পর্যটন শিল্পের অনন্য স্থাপনা আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টার ও সুন্দরবন কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম সেন্টারে, প্রতি বছর হাজারো পর্যটক ভিড় জমায়। ইতিমধ্যেই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়েছে উপকূলবর্তী গড়ে ওঠা এসব পর্যটন কেন্দ্র। তিনি আরও বলেন সাতক্ষীরা অঞ্চল দিয়ে খুব সহজে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়।
