প্রতিদিনের ডেস্ক॥
ডায়ার উলফ শক্তিশালী মাংসাশী প্রাণী ছিল, যা আজকের নেকড়ের চেয়েও বড় ও শক্তিশালী। যদি কোনোভাবে এগুলো বেরিয়ে যায় তাহলে জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রাণীরা মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়
বিজ্ঞানের এক অবিশ্বাস্য অর্জনে প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডায়ার উলফ (নেকড়ে) প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কলোসাল বায়োসায়েন্সেস সফলভাবে এ প্রাণীর তিনটি শাবকের ‘পুনর্জন্ম’ ঘটিয়েছে। যা বৈজ্ঞানিক বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জন্ম নেয়া তিনটি নেকড়ে শাবক দেখতে বিলুপ্ত ডায়ার উলফের মতো হলেও তারা মূলত হাইব্রিড বা শংকর প্রজাতি। ডায়ার উলফের কাছাকাছি জীবিত গোত্রের গ্রে উলফের (ধূসর নেকড়ে) ডিএনএ পরিবর্তন করে তিনটি ডায়ার উলফ শাবকের জন্ম দিয়েছে বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় ব্যবহার হয়েছে প্রাচীন ডিএনএ, ক্লোনিং ও জিন-এডিটিং প্রযুক্তি।
বায়োটেক প্রতিষ্ঠান কলোসাল একই সঙ্গে ২০২১ সাল থেকে বিলুপ্ত ম্যামথ, ডোডো এবং তাসমানীয় বাঘ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ডায়ার উলফের খবরটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রশংসা অর্জন করলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতূহলী প্রশ্ন। বিজ্ঞানীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ফিলিপ সেডন মেইল অনলাইনকে বলেছেন, ‘এটি ঠিক জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে দেখা গেছে ডাইনোসররা মানুষের সংস্পর্শে এসে আক্রমণ শুরু করে।’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা ডায়ার উলফ শাবকগুলো বর্তমানে একটি পার্কে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গবেষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদেরকে বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং তাদেরকে একটি বড় ঘেরে রাখা হবে ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, ‘কী হবে যদি এরা পালিয়ে যায়?’
তাদের মতে, ডায়ার উলফ শক্তিশালী মাংসাশী প্রাণী ছিল, যা আজকের নেকড়ের চেয়েও বড় ও শক্তিশালী। যদি কোনোভাবে এগুলো বেরিয়ে যায় তাহলে জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রাণীরা মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিওন্টোলজিস্ট নিক রলেন্স মেইল অনলাইনকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি বংশবৃদ্ধির উদ্দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডায়ার উলফ প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে এ নতুন নেকড়ে প্রজাতি ধূসর নেকড়েদের শিকারের চেয়েও বড় প্রাণী শিকার করতে সক্ষম হতে পারে।’
আবিষ্কারটি যেমন বিজ্ঞানের এক অসাধারণ অগ্রগতি, তেমনি এটি মানবজাতির জন্য নতুন ধরনের দায়িত্বও বয়ে এনেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।
