জি এম ফারুক আলম/শামিম হোসেন
যশোরের কুয়াদা জামতলা মোড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে নগদ’র ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের টাকা বহনকারী প্রাইভেটকারটিতে ছিলেন যশোর শাখার কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। তিনি নগদ যশোরের একাউটেন্ট কাজী মোমিনুর ইসলামের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মনিরামপুরের উদ্দেশে রওনা হন। প্রাইভেটকার ড্রাইভ করছিলেন যশোর পোস্ট অফিসপাড়ার মোহাম্মদ সাজু। প্রাইভেটকার নাম্বার ঢাকা মেট্টো গ ১৫৫৯২৩। মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকল ৯টার দিকে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। যশোর শাখার কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান-তিনি নগদ যশোরের একাউটেন্ট কাজী মোমিনুর ইসলামের কাছ থেকে ৫৫ লাখ টাকা বুঝে নিয়ে একটি প্রাইভেট যোগে মনিরামপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কুয়াদার জামতলা মোড়ে পৌঁছালে প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় ছিনতাইকারীরা প্রাইভেটকারে গ্লাস ভাংচুর করে। ওই দুই যুবক প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙ্গে চালক সাজুসহ ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামকে মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে তারা টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল টেনে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় এসময় সড়কে লোকজনের চলাচল সীমিত ছিল। নগদ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম যশোরের ভাতুড়িয়া হাফেজপাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগদ যশোর একটি শাখার ব্যবস্থাপক। যশোর থেকে নগদের টাকা নিয়ে যে প্রাইভেটকারটি যাচ্ছিল, তার চালক যশোর পোস্ট অফিসপাড়ার মোহাম্মদ সাজু। এ ব্যাপারে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মিরাজুল ইসলাম, জবেদা খাতুন জানান, মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ ভাংচুরের শব্দ শুনতে পায়। এগিয়ে গিয়ে দেখা যায় প্রাইভেট কারের গ্লাস ভাঙ্গা অবস্থায় পাশে দুইজন দাড়িয়ে আছে। টুকু নামের অপর এক মাঠ শ্রমিকের বরাত দিয়ে তারা জানায়, ব্যাগ নিয়ে দুই মোটরসাইকেলে কয়েকজনকে যশোরের দিকে পালিয়ে যেতে দেখেছে। নগদ-এর মণিরামপুর অফিস সুপার ভাইজার আবু সাঈদ টাকা ছিনতাইয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাগে ৫৫ লাখ টাকা ছিল বলে তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রাইভেটকারের চালক সাজু বলেন, কুয়াদা বাজার ছেড়ে আসার পর মোটরসাইকেলে দুই যুবক আমাদের পিছু নেয়। জামতলা মোড়ে আসলে মোটরসাইকেল আমাদের সামনে আড় করে দিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তায় পড়ে গিয়ে প্রাইভেটকারের সামনের অংশের সাথে আটকে যায়। তখন আমি গাড়ি সামনে বাড়াতে পারিনি। চালক সাজু আরও বলেন, এরপর মোটরসাইকেলের দুইজন উঠে এসে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙ্গে আমাদের মারপিট করতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগে ওরা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল টেনে পালিয়ে যায়। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

